মোবাইলের নেশায় অন্ধ হয়ে কৃষ্ণনগরের স্কুলে খুদেকে খুন করল দুই ‘দিদি’! – এবেলা

মোবাইলের নেশায় অন্ধ হয়ে কৃষ্ণনগরের স্কুলে খুদেকে খুন করল দুই ‘দিদি’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি স্কুলের হস্টেলে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হস্টেলেরই নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে সাত বছরের ওই খুদেকে শৌচাগারের বালতির জলে ডুবিয়ে এবং হাতের শিরা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকে আটক করে হোমে পাঠিয়েছে পুলিশ। ধৃতেরা পুলিশের প্রাথমিক জেরায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।

যেভাবে ছক কষা হয়েছিল খুনের

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অভিযুক্ত দুই ছাত্রীর ঘর থেকে বেশ কিছু খাতা এবং ডায়েরি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেখানে লেখা ছিল, “বিরাট কিছু ঘটতে চলেছে” এবং “বন্ধ হবে হস্টেল”। অন্য একটি ছেঁড়া পাতায় লেখা ছিল, “যা হচ্ছে সবাই অবাক হয়ে যাবে”। পুলিশ ও মনস্তাত্ত্বিকদের অনুমান, হস্টেল থেকে পালানোর জন্যই ভিতরে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চেয়েছিল তারা। তাদের ধারণা ছিল, বড় কোনো অঘটন ঘটলে হস্টেল কর্তৃপক্ষ সেটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। সেই ভাবনা থেকেই হস্টেলের সবচেয়ে ছোট আবাসিককে তারা নিশানা বানায়।

মোবাইলের নেশা ও অপরাধের নৃশংসতা

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ধৃত দুই ছাত্রী তীব্রভাবে সমাজমাধ্যমের নেশায় আসক্ত ছিল। হস্টেলে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় সেখানে তাদের অনীহা তৈরি হয়। বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে সার্বক্ষণিক মোবাইলের দুনিয়ায় ডুবে থাকতেই তারা হস্টেল বন্ধ করার এই ভয়ঙ্কর পথ বেছে নেয়। শনিবার ভোরে শৌচাগার থেকে ওই শিশুর দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শিশুর ফুসফুস ও পেটে প্রচুর জল মিলেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রথমে পেন্সিল ছোলার ‘শার্পনার’ থেকে ব্লেড খুলে রাখা হয়েছিল। এরপর শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বালতির জলে শিশুর মাথা ডুবিয়ে রাখার পর, মৃত্যু নিশ্চিত করতে সেই ব্লেড দিয়ে তার হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে একাধিকবার স্নান ও পোশাক বদল করেছিল অভিযুক্তরা। এমনকি শৌচাগার জল দিয়ে ধুয়ে রক্তের দাগ ও অন্যান্য প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্য এক ছাত্রীর বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি কিশোরী বয়সে অতিরিক্ত মোবাইল ও সমাজমাধ্যমের আসক্তির এক ভয়ঙ্কর সামাজিক কুপ্রভাবকে সামনে এনেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও উস্কানি বা কোনো চক্র কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *