‘আমার বাবা পুলিশ’! পরীক্ষায় টুকলি আটকাতেই শিক্ষকদের ওপর চড়াও সাব-ইন্সপেক্টর, বেধড়ক মারধর – এবেলা

‘আমার বাবা পুলিশ’! পরীক্ষায় টুকলি আটকাতেই শিক্ষকদের ওপর চড়াও সাব-ইন্সপেক্টর, বেধড়ক মারধর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টুকলি আটকাতেই শিক্ষকদের ওপর চড়াও পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর!

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক সরকারি পলিটেকনিক কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়া নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খোদ পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ উঠল এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হতেই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করেছেন।

টুকলি ধরতে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ জুন, দেরাদুনের পিথুওয়ালার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার সময় সাব-ইন্সপেক্টর মহেশ কান্দওয়ালের ছেলে কবির কান্দওয়ালকে টুকলি করার অভিযোগে ধরেন শিক্ষকরা। সেই সময় কবির শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে জানায় যে তাঁর বাবা পুলিশ অফিসার। অভিযোগ, পরদিন অর্থাৎ ৫ জুন কবিরের বাবা মহেশ কান্দওয়াল সদলবলে কলেজে গিয়ে কন্ট্রোল রুমে ঢুকে শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। চেয়ার ছুড়ে শিক্ষকদের মারধর করার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।

ক্ষমতার দম্ভের পরিণাম ও পাল্টা দাবি

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দেরাদুনের এসএসপি প্রমেন্দ্র সিং দোবাল অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। পিতা ও পুত্রের বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও রুজু করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কবির কান্দওয়াল পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে পাল্টা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। কবিরের দাবি, শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে টুকলি করার সুযোগ দিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন, যা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিশ এখন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখছে। আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে এমন আচরণের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *