লজ্জা থাকলে দিল্লি ছুটতেন না, ইউসুফকে বেনজির আক্রমণ মহুয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় রাজনীতিতে এখন তীব্র আলোড়ন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে এক নজিরবিহীন ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে গরিষ্ঠ সংখ্যক সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা গোষ্ঠী বা ‘এনডিএ সমর্থক ব্লক’ তৈরির আবেদন জানানোর পর যখন চরম তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরের লড়াই প্রকাশ্যে চলে এল। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
সামাজিক মাধ্যমে করা একটি বিস্ফোরক পোস্টে সরাসরি ইউসুফ পাঠানের নাম টেনে মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকে সাড়া দিয়েই ইউসুফ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। ইউসুফকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মহুয়া লেখেন, জেলার মানুষ বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন, সামান্য লজ্জা আর মেরুদণ্ড থাকলে এই কাজ করতেন না। সচরাচর দলের ভেতরের কোন্দল নিয়ে মহুয়া মৈত্রকে এভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেখা যায় না। কিন্তু এই মহা-বিপর্যয়ের পর তিনি অত্যন্ত আগ্রাসী ভঙ্গিতে সরাসরি দলত্যাগী তথা বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছেন।
ভাঙনের কারণ ও নেপথ্য জল্পনা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রবীণ হেভিওয়েট নেতা অধীর চৌধুরীকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর বহরমপুরের মাটিতে সেটাই ছিল জোড়াফুলের প্রথম জয়। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহরমপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়ানোর জন্য নাকি ইউসুফকে সাংসদ পদ ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র দিকে ইউসুফ পা বাড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তৃণমূলের সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের এই নজিরবিহীন অস্তিত্বের সংকটের মধ্যেও মহুয়া মৈত্র শুরু থেকেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সম্প্রতি বিদ্রোহী বিধায়কদেরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা প্রত্যেকেই আসলে মমতার জনপ্রিয়তার জোরেই রাজনীতিতে টিকে ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ইউসুফ পাঠানকে মহুয়ার এই সরাসরি আক্রমণ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল কতটা গভীর। এই ভাঙনের ফলে দিল্লির দরবারে তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও এর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে।
