জামিন পেয়েই বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ সৃজনের, যাদবপুরের রেল উচ্ছেদ নিয়ে বিস্ফোরক বাম নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুর স্টেশন চত্বরে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর অবশেষে জামিন পেলেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। সোমবার দুপুরে আলিপুর আদালত থেকে জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরোতেই রেল ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই তরুণ বাম নেতা। একই সঙ্গে পুনর্বাসনহীন এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও আদানি গোষ্ঠীকে একহাত নেন তিনি।
মাঝরাতের লাঠিচার্জ ও যৌথ বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
সৃজন ভট্টাচার্যের দাবি, গত ২ তারিখ রেল কর্তৃপক্ষ যখন প্রথম উচ্ছেদ করতে আসে, তখন আদালতের আইনি কাগজ দেখানোর পর তারা ফিরে গিয়েছিল। কথা ছিল, সোমবার আদালত খুললে পুনর্বাসন সংক্রান্ত রায়ের সার্টিফাইড কপি রেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়াকে এড়াতে এবং আদালত খোলার অপেক্ষা না করেই রবিবার মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
বাম নেতার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছে, যার ফলে সুজন চক্রবর্তী, অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্যসহ একাধিক ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মাথা ফেটেছে। আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে মাঝরাতে এই বুলডোজার চালানোকে রেল পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ কারসাজি ও চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উন্নয়ন কি শুধু আদানির? প্রশ্ন সৃজনের
বাম আমলের ‘অপারেশন সানশাইন’-এর তুলনায় বর্তমান উচ্ছেদের সমালোচনা করে সৃজন জানান, বাম আমলে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ভোটের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে এখন তাঁদের রুজি-রুটিতে টান দিচ্ছে।
কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তোপ দেগে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই গরিব খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ভোট নিয়েই বিজেপি জিতেছে, অথচ আজ আধুনিকীকরণের নামে তাঁদেরই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই উন্নয়ন আসলে কার জন্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কি তবে শুধু আদানির মতো বড় শিল্পপতিদের জন্য? দিনে ৪০০ টাকা আয় করা গরিব মানুষের জন্য কি কোনো উন্নয়ন নেই?
এই ঘটনার পর আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৃজন। সাধারণ মানুষকে এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পুনর্বাসন ছাড়া এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
