প্রযুক্তি সেনার বিকল্প নয়! চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান – এবেলা

প্রযুক্তি সেনার বিকল্প নয়! চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পেলেও তা কখনোই সরাসরি একজন সেনার বিকল্প হতে পারে না। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো হবে স্বল্পমেয়াদী, তীব্র এবং প্রযুক্তি-নির্ভর। কিন্তু ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক কাঠামোর দেশে জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত অটুট রাখতে মানবসম্পদ এবং যন্ত্রের যুগলবন্দীই শেষ কথা বলবে।

চীন সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও সামরিক প্রস্তুতি
সেনাপ্রধান জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রতি বছর এগারোশোর বেশিবার যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা স্থানীয় স্তরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সীমান্তে শান্তি কেবল আশার ওপর নির্ভর করে টিকিয়ে রাখা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা। বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও বেশ সংবেদনশীল, তাই পারস্পরিক বিশ্বাস সম্পূর্ণ রূপে মজবুত না হওয়া পর্যন্ত উত্তর সীমান্তে ভারতীয় সেনার ব্যাপক উপস্থিতি ও কড়া নজরদারি বহাল থাকবে।

অপারেশন সিন্দুর এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেনারেল দ্বিবেদী জানান যে, এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, বরং আধুনিক সমরনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার সেনার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, এই অপারেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানকে কড়া কৌশলগত বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনে সন্ত্রাসের উৎসমূলে গিয়ে নিখুঁত ও চূড়ান্ত আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর। এর ফলে আগামী দিনে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের মূল ভিত্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভবিষ্যতের রণকৌশল ও থিয়েটার কমান্ডের প্রভাব
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সেনাপ্রধানের মতে, ‘থিয়েটার কমান্ড’ গঠন করা ভবিষ্যতের যুদ্ধ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত জরুরি, যা যেকোনো বহুমুখী আক্রমণের দ্রুত ও সুসংহত জবাব দিতে সক্ষম হবে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ভারতীয় সেনার কার্যপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। প্রতিটি সেনাসদস্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত হয়ে দ্রুত আক্রমণ শানাতে পারবেন। এই স্বনির্ভর এবং প্রযুক্তি-বান্ধব সামরিক পরিকাঠামো ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *