রাজনীতি দূরে রেখে মানুষের উন্নয়ন, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে বিরোধীদের নজিরবিহীন উপস্থিতি! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলাকে নিয়ে কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে এক অন্যরকম রাজনৈতিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেবল শাসকদল নয়, অংশ নিয়েছেন বিরোধী শিবিরের সাংসদ ও বিধায়করাও। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও জনস্বার্থ।
উন্নয়নে এককাট্টা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে জনপ্রতিনিধিরা
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে বিরোধীদের ব্রাত্য রাখার যে অভিযোগ ছিল, সেই ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও বছরজুড়ে জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিরোধী সাংসদ ও বিধায়কদের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধায়ক মানেই বিধায়ক, এখানে দলমত নির্বিশেষে সকলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বিরোধীদের তরফে উঠে এসেছে এক নতুন স্বাধীনতার কথাও, যেখানে তাঁরা প্রশাসনিক বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্ষা মোকাবিলা ও উন্নয়ন প্রকল্প
এদিনের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আসন্ন বর্ষা মৌসুম এবং বন্যা মোকাবিলা। তিন জেলার প্লাবনপ্রবণ এলাকাগুলোর মানুষের কথা মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বাস্তবায়নের ওপর এদিনের বৈঠকে বাড়তি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সমন্বয়মূলক মনোভাব ও বিরোধী নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে রাজ্য ও জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। জনস্বার্থে এই পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় থাকলে প্রশাসনিক কাজেও যে নতুন গতি আসবে, তা এখন স্পষ্ট।
