তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা, পুলিশের জালে বিজেপির দুই হেভিওয়েট নেতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ওপর জোর দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের অন্দরে তৃণমূলী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বার্তার সত্যতা প্রমাণ করতেই এবার পদক্ষেপ নিল পুলিশ। তোলাবাজি, মারধর, হুমকি ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো আরামবাগ ও ক্যানিংয়ের দুই বিজেপি নেতাকে।
দলীয় নীতি ও আইনি কড়াকড়ি
গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির ওবিসি সেলের সহ-সভাপতি শুভজিৎ ঘোষ এবং ক্যানিংয়ের বিজেপি নেতা চিরঞ্জিত হালদার। অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই শুভজিৎ ঘোষ স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেন এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে, ক্যানিংয়ের চিরঞ্জিত হালদারের বিরুদ্ধে ভেড়ি দখল, তোলাবাজি ও খুনের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলের দিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়েছে। শুভজিৎ ঘোষ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন।
শুদ্ধি অভিযানের বার্তা
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেপ্তারির ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানেরই ইঙ্গিত। অতীতে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, শাসকদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা দেখা যেত। বর্তমান সরকার সেই ধারা ভেঙে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলে দাবি করছে বিজেপি। এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, দলের পদাধিকারী বা প্রভাবশালী নেতা হলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। এই বার্তা একদিকে যেমন দলের অন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ইমেজ গড়ে তোলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই ধরনের কঠোর অবস্থান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
