আর জি করের সত্যি এবার সিবিআইকে বলুন, দলেরই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ কল্যাণের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আর জি কর কাণ্ড নিয়ে দলেরই দুই ‘বিদ্রোহী’ চিকিৎসক-সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল তা যদি ওনারা জেনে থাকেন, তবে সিবিআইকে গিয়ে সেই সত্যিটা যেন বলেন। কল্যাণের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তথ্য গোপনের অভিযোগ এবং কল্যাণের বিস্ফোরক দাবি
আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের যে অভিযোগ উঠেছিল, কল্যাণের মঙ্গলবারের বক্তব্য তা আরও উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শ্রীরামপুরের সাংসদ এদিন স্পষ্ট ভাষায় দুই চিকিৎসক-সাংসদকে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান। এর পাশাপাশি এই ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও সরব হন তিনি। কল্যাণের এই মন্তব্য দলের পূর্বতন অবস্থানের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার রাশ ক্রমশ শিথিল হচ্ছে। একদিকে যেমন ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন, অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিদ্রোহী অংশকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘সুখের পায়রা’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলনেত্রীর সঙ্গেই থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের ফলে আর জি কর মামলা নতুন মোড় নিতে পারে। দলের ভেতরের এই কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের এমন মন্তব্য আগামী দিনে সিবিআই তদন্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরকেও রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে পারে।
