ছাঁটাইয়ের ভয় নেই টিসিএস-এ! এআই নিয়ে বড় ঘোষণা এন চন্দ্রশেখরনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত প্রায় এক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপটে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কায় ভুগছিলেন আইটি খাতের কর্মীরা। তবে দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করলেন। সংস্থার ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, টিসিএস-এ কোনো কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা আপাতত নেই।
তবে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা না থাকলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। চন্দ্রশেখরনের মতে, এআই প্রযুক্তি আইটি শিল্পের জন্য ভয়ের কারণ নয়, বরং এটি বড় সুযোগ। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আসবে এবং কাজের দক্ষতা বাড়বে। এআই এজেন্ট এবং মানুষ একযোগে কাজ করবে বলেই মনে করছেন তিনি। ফলে নিয়োগের বর্তমান গতি কিছুটা কমে আসতে পারে।
মানুষ ও এআই এজেন্টের সহাবস্থান
টিসিএস চেয়ারম্যানের মতে, এআই শুধু কোড লেখা বা সফটওয়্যার তৈরির কাজ সহজ করছে না, বরং এটি সবার দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে টিসিএসের কর্মীবাহিনীর সমসংখ্যক এআই এজেন্ট কাজ করবে বলে লক্ষ্য স্থির করেছে সংস্থা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এআই বা জেনারেটিভ এআই-এর কারণে ব্যবসার মডেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে আশঙ্কা অনেক বিশেষজ্ঞ করছেন, তা সঠিক নয়। বরং এআই এবং আইটি সার্ভিসের মেলবন্ধনে কাজের গতি ও পরিধি দুই-ই বাড়বে।
এআই থেকে আয়ের বিশাল লক্ষ্য
স্রেফ কাজের দক্ষতা নয়, বরং এআই-কে কেন্দ্র করে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা করেছে টিসিএস। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সংস্থার এআই ডিল পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে। চন্দ্রশেখরনের আশা, আগামী কয়েক বছরে এআই সংক্রান্ত আয় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্থার মোট আয়ের একটি বড় অংশ এআই সার্ভিস থেকে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই শিল্পভিত্তিক এআই এজেন্ট, ডেটা সেন্টার এবং সোভারেন ক্লাউড পরিকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
