জোড়াফুলে ব্যাপক ভাঙন, ৬৪ বিধায়ক নিয়ে আমরাই আসল তৃণমূল দাবি ঋতব্রতর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে এবং তা এবার চরম আকার ধারণ করেছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, শাসক দলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। একদিকে যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব দিল্লিতে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁরাই আসল তৃণমূল এবং কোনোভাবেই তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন না।
সংসদীয় দলেও বড়সড় ভাঙন
রাজ্য বিধানসভার গণ্ডি ছাড়িয়ে তৃণমূলের এই বিদ্রোহ জাতীয় স্তরেও ব্যাপকভাবে আছড়ে পড়েছে। লোকসভায় কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে ইতিমধ্যেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। পাশাপাশি, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। দলের সদ্য গঠিত কমিটি নিয়েও অসন্তোষ চরমে। নতুন কমিটিতে থাকা মালা রায় এবং সায়নী ঘোষের মতো নেত্রীদের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের জল্পনা এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই পরিস্থিতির জন্য দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক রদবদলকে দায়ী করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “অভিষেকের সং আছে, গঠন নেই।”
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দলের অন্দরে এমন সাঁড়াশি চাপের মুখে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী হয়তো কংগ্রেসে যোগদানের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের শাসক দলের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতার ওপর। এত বড় সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ দলত্যাগ করায় এবং বিদ্রোহী শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করায়, দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ভাঙন রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
