তৃণমূলে মহাবিদ্রোহের আঁচ, এবার কি দল ছাড়ার লাইনে সায়নী ও মালা? – এবেলা

তৃণমূলে মহাবিদ্রোহের আঁচ, এবার কি দল ছাড়ার লাইনে সায়নী ও মালা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এক নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের পর এবার খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এক ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে যোগ দিতে চলেছেন সায়নী। প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষুব্ধ শিবিরের নথিপত্রে সায়নী ইতিমধ্যেই সই করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি দলের মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদের দায়িত্ব পাওয়া সায়নীর মতো প্রথম সারির যুব নেত্রীর এই পদক্ষেপ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

উপেক্ষা আর ক্ষোভের জের

দলীয় সূত্রের খবর, সায়নী ঘোষের এই আকস্মিক বিদ্রোহের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল এবং তাঁকে কার্যত একাকী ফেলে রাখা হয়েছিল, তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। ঘনিষ্ঠ মহলে সায়নী জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি, উল্টে তাঁর প্রচারের কর্মসূচি মাঝপথেই কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই তীব্র অসন্তোষ থেকেই তিনি বিক্ষুব্ধ শিবিরের হাত শক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দলে ভাঙনের চওড়া ফাটল

সংকট কেবল সায়নীতে সীমাবদ্ধ নেই, কলকাতা দক্ষিণের প্রবীণ সাংসদ মালা রায়ও এবার দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জোর খবর। সূত্রের দাবি, মালা রায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের হাত ধরে সরাসরি এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর মতো বর্ষীয়ান নেত্রীর এই সম্ভাব্য দলত্যাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে বড়সড় নাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, সম্প্রতি তৃণমূল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সুস্মিতা দেব মন্তব্য করেছেন যে, তৃণমূল ছাড়ার পর তিনি নিজেকে স্বাধীন মনে করছেন এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। সুস্মিতার এই মন্তব্য দলের বর্তমান অস্বস্তিকে আরও উস্কে দিয়েছে।

একের পর এক সাংসদের এভাবে বেঁকে বসা এবং বিদ্রোহের আবহে তৃণমূলের তরফ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সাংগঠনিক এই ফাটল আগামী দিনে ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক বিপদ ডেকে আনতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *