দিল্লির পার্টি অফিসও হারাচ্ছে তৃণমূল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার পর এবার দিল্লির দলীয় কার্যালয়ও হাতছাড়া হওয়ার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের দলীয় অবস্থান পরিবর্তনের জেরে রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের সরকারি বাংলোটি আর তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে থাকছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। এতদিন এই বাংলোটিকেই দিল্লির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিল ঘাসফুল শিবির।
অফিস হারানোর নেপথ্যে সমীকরণ
লোকসভার দলনেতা হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসার পর থেকেই ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি বাংলোটি তৃণমূলের সংসদীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেখানে একাধিক বৈঠক ও সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সম্প্রতি দলের অন্দরে তৈরি হওয়া মতবিরোধ ও নতুন ব্লক গঠনের জেরে সমীকরণ বদলে গেছে। জানা গেছে, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিক্ষুব্ধ শিবিরের অংশ হয়েছেন এবং এই দলে পার্থ ভৌমিকও রয়েছেন। এমতাবস্থায়, নিজের নামে বরাদ্দ ওই সংসদীয় আবাসন দলীয় কার্যালয় হিসেবে ফেরত চাইতে পারেন তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর অনুরোধেই হাউজিং কমিটি থেকে ওই বাড়িটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। পার্থ ভৌমিক এখন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী বলে মন্তব্য করে কল্যাণ বলেন, তিনি চাইলে শতাব্দী রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে সেখানে কার্যক্রম চালাতে পারেন। ইতিমধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদ কামরাজ লেনের একটি বাংলো থেকে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করায়, রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের অফিসটি হাতছাড়া হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবির বড় ধরনের লজিস্টিক ও কৌশলগত ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
