দিঘা থেকে সরল ‘ধাম’, মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পূর্বতন সরকারকে তোপ রাজেশ দৈতাপতির! – এবেলা

দিঘা থেকে সরল ‘ধাম’, মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পূর্বতন সরকারকে তোপ রাজেশ দৈতাপতির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে মুছে ফেলা হল ‘ধাম’ শব্দটি। প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে পুরনো ব্যানার সরিয়ে মূল ফটকে লাগানো হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লেখা নতুন ব্যানার। তবে বিগ্রহের মূল অবস্থানটিকে মন্দির হিসেবেই গণ্য করা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে স্বস্তি

মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ এবং পুরীর প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি। এই আবহে তিনি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি জানান, মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই তিনি পাথরের মূর্তির বদলে নিমকাঠের মূর্তি স্থাপন এবং ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, চার ধামের অন্যতম হলো পুরীর জগন্নাথ ধাম, তাই দিঘায় এই শব্দের ব্যবহার অনুচিত। এছাড়াও হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কথাও তিনি বলেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর কোনো কথাই শোনা হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেগ রক্ষা করে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ায় তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নামবদলের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাসের উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। মূলত পুরীর শ্রীক্ষেত্র ধামের নিজস্ব স্বকীয়তা ও মাহাত্ম্য অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিঘাকে সমকক্ষ ‘ধাম’ হিসেবে তুলে ধরলে তা বৃহত্তর ভক্তসমাজের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে, এই বাস্তব বিবেচনা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ। এই পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে দিঘার জগন্নাথ মন্দির পরিচালনায় সনাতন রীতিনীতি ও ঐতিহ্য আরও সুচারুভাবে পালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *