নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নয়া ইতিহাস গড়লেন মোদি, ‘জ্ঞানী বন্ধু’কে ট্রাম্পের বিশেষ শুভেচ্ছা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন মাইলফলক। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর টানা দীর্ঘতম মেয়াদের রেকর্ড ভেঙে অনন্য নজির গড়লেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার শপথ নেওয়ার পর টানা তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে এই গৌরব অর্জন করলেন তিনি। মোদির এই ঐতিহাসিক অর্জনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অভিনন্দন বার্তা।
ভাঙল ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড
দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে ভারতের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ডটি ছিল জওহরলাল নেহরুর। ১৯৫২ সালের ১৩ মে থেকে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি একটানা ৪,৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গত বুধবার সেই রেকর্ড অতিক্রম করে ৪,৩৯৯তম দিনে পদার্পণ করলেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একটানা ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ডও ভেঙেছিলেন। পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে এই দীর্ঘ শাসনকাল পরিচালনা করা ভারতীয় রাজনীতিতে মোদির শক্তিশালী অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা ও আগামীর লক্ষ্য
মোদির এই অনন্য রেকর্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁকে ‘মহান প্রধানমন্ত্রী এবং জ্ঞানী ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা। উনি একজন শক্তিশালী, স্বাস্থ্যবান ও জ্ঞানী ব্যক্তি।’ অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতকে বদলে দেওয়ার জন্য মোদির প্রশংসা করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বনেতাদের এমন বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে অনন্য নজির গড়ার পর মোদি বার্তা দেন, ‘‘বিনয়ী রাজাই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।’’ একই সাথে তিনি দেশকে ‘আত্মনির্ভর’ করে তোলার ডাক দিয়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শক্তিক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করতে এবং আগামী দিনে ৫০০ গিগাওয়াট পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, ‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করবে।
