ব্যর্থতা ঢাকতে হিন্দুদের কলঙ্কিত করেছে কংগ্রেস! ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’ নিয়ে সরব মোদি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
এনডিএ সরকারের দ্বাদশ বর্ষপূর্তিতে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ, নিজেদের চরম ব্যর্থতা এবং নীতিপঙ্গুত্ব ঢাকতেই দেশের মন্থর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দায় সুকৌশলে চাপানো হয়েছিল সংখ্যাগুরু হিন্দুদের ওপর। প্রধানমন্ত্রী জানান, কংগ্রেস দেশবাসীকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে ভারতে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে দেশের সংখ্যাগুরু জনতার ধর্মীয় পরিচয়কে কলঙ্কিত করার এই ঘৃণ্য প্রয়াসের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
কী এই ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’
স্বাধীনতার পর প্রথম তিন দশক ভারতের সার্বিক আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩.৫ থেকে ৪ শতাংশ। ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিবিদ রাজ কৃষ্ণ এই মন্থর জিডিপি বৃদ্ধির হারের নাম দেন ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’। তাঁর দাবি ছিল, হিন্দুদের জীবনযাপনের ধরনই এই ধীরগতির মূল কারণ। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই বিতর্কিত তত্ত্বের কোনো বিরোধিতা করেনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই মন্থর উন্নয়নের আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘কংগ্রেস গ্রোথ রেট’। নিজেদের নীতিহীনতা ও ব্যর্থতার দায় এড়াতেই তারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
সদিচ্ছা ও দ্রুত উন্নয়নের নয়া দিশা
অতীতের এই ‘নীতিপঙ্গুত্ব’ থেকে দেশকে বের করে আনার কৃতিত্ব দাবি করে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১২ বছরে এনডিএ সরকার উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। সঠিক নিয়ত, নীতি এবং নির্ণয়—এই তিনের মেলবন্ধনে যে দেশের দ্রুত ও সার্বিক বিকাশ সম্ভব, তা আজ প্রমাণিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই জোরালো বার্তার নেপথ্যে রয়েছে অতীত সরকারের নেতিবাচক আখ্যানকে পুরোপুরি খারিজ করে নিজেদের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করা, যা জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
