কন্যাসন্তান হওয়ায় বালিশ চাপা দিয়ে খুন! ৯ বছর পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের যাবজ্জীবন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বনগাঁ: কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়াই কাল হয়েছিল। আর সেই অপরাধেই গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ৯ বছর পর ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। মৃত বধূর স্বামী, দেওর, শ্বশুর ও শাশুড়ি— একই পরিবারের চারজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বনগাঁ আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-২ কোর্টের বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন তারক কর্মকার (স্বামী), সমীর কর্মকার (দেওর), জয়দেব কর্মকার (শ্বশুর) এবং সাবিত্রী কর্মকার (শাশুড়ি)।
আদালত সূত্রে খবর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কালীহাট দুর্গাপুরের বাসিন্দা পিঙ্কি কর্মকারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বনগাঁর গোপালনগর থানার কামদেবপুরের বাসিন্দা তারক কর্মকারের। বিয়ের দু’বছর পর তাঁদের একটি কন্যাসন্তান হয়। অভিযোগ, মেয়ের জন্মের পর থেকেই তিন মাসের একরত্তি শিশুকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চরম লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের শিকার হতে হতো পিঙ্কিকে। বাড়তি পণের দাবিতেও চলত লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। ২০১৭ সালের ১৪ মে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছালে পিঙ্কিকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।
ঘটনার পরের দিনই, অর্থাৎ ১৫ মে গোপালনগর থানায় বধূ নির্যাতন ও খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পিঙ্কির বাপের বাড়ি। তদন্তে নেমে পুলিশ চার অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। অবশেষে বুধবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চারজনকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।
এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সরকারি আইনজীবী শ্যামলকুমার বিশ্বাস জানান, কন্যাসন্তান হওয়ার অপরাধেই ওই গৃহবধূর ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে খুন করা হয়েছিল, আদালত আজ উপযুক্ত সাজা দিয়েছে। অন্যদিকে, আদালতের এই রায়ে খুশি পিঙ্কির পরিবারও। তাঁর ভাই বাপি কর্মকার বলেন, “বিগত নয় বছর ধরে আমরা এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। বিচারব্যবস্থার ওপর আমাদের আস্থা ছিল, আজকের রায়ে আমরা সত্যিই খুশি।”
