সন্তানের ব্রেন ‘লক’ করছে স্মার্টফোন! অজান্তেই কি কেড়ে নিচ্ছেন শৈশব? জেনে নিন কী এই ‘ক্রিটিকোম’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করলেও, তা নিঃশব্দে গিলে খাচ্ছে শিশুদের অমূল্য শৈশব। একসময় বিকেল হলেই যেখানে শিশুরা মাঠে ধুলোবালি মেখে ফুটবল খেলত বা লুকোচুরি খেলত, আজ সেখানে তাদের শৈশব বন্দি হয়ে পড়েছে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট আর ভিডিও গেমের নীল আলোয়। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, শৈশবে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পরবর্তী জীবনে বড়সড় স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকেরা একেই বলছেন ‘ক্রিটিকোম’।
কী এই ‘ক্রিটিকোম’?
গবেষকদের মতে, মানুষের জন্মের পর থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে একটি বিশেষ ‘উইন্ডো’ বা জানলা হিসেবে ধরা হয়, যার নাম ‘ক্রিটিকোম’। এই সময়টাতে আমাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল থাকে। ফলে বাইরের দুনিয়া থেকে শিশুরা যা শেখে, তা তাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কে স্থায়ী ছাপ ফেলে। এই কারণেই ছোটবেলায় যেকোনো ভাষা বা নতুন কাজ দ্রুত শেখা সম্ভব হয়। কিন্তু এই অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে শিশুরা যদি মাঠে দৌড়াদৌড়ি বা সামাজিক মেলামেশা থেকে বঞ্চিত হয়ে শুধু ফোনে বুঁদ হয়ে থাকে, তবে তাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ চিরতরে থমকে যেতে পারে।
স্মার্টফোন যেভাবে কাড়ছে ভবিষ্যৎ
সমস্যাটা শুধু ফোনের স্ক্রিনের নয়, আসল ক্ষতি হচ্ছে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা হারানোর মধ্যে। একটা শিশু যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্টুন দেখছে বা ভিডিও গেম খেলছে, তখন সে বন্ধুদের সাথে মিশছে না, খেলছে না কিংবা কোনো সৃজনশীল কাজ করছে না। এই সামাজিক অভিজ্ঞতার অভাবই বড় বয়সে তাদের আচরণ ও মানসিকতায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করছে।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলে পরে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু শৈশবের এই মানসিক ও সামাজিক বিকাশের ঘাটতি কিন্তু ‘ইরিভার্সিবল’— অর্থাৎ যা কোনোদিনও আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে শিশুদের মনোযোগের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।
বাঁচানোর উপায় কী?
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়েরা এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছেন। একদিকে চিকিৎসকেরা স্ক্রিন টাইম কমাতে বলছেন, অন্যদিকে স্কুলের প্রজেক্ট বা পড়াশোনার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা স্কুলগুলোতেও পড়াশোনার ফাঁকে ৫-১০ মিনিটের একটা ‘ফিজিক্যাল ব্রেক’ বা শরীরচর্চার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
একই সাথে মা-বাবাদেরও সচেতন হতে হবে। বাচ্চার হাত থেকে আচমকা ফোন কেড়ে নিলে সে আরও বেশি জেদি বা খিটখিটে হয়ে উঠতে পারে। তাই ফোন কেড়ে নেওয়ার আগে তাদের জন্য বিকল্প আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাচ্চার সাথে গল্প করা, ছুটির দিনে মাঠে নিয়ে যাওয়া বা একসাথে ইন্ডোর গেমস খেলার মাধ্যমে তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই হতে পারে এই ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।
