সপ্তাহান্তে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভিজবে বাংলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে বর্ষার দাপট। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলা এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জোরালো জলীয় বাষ্প এবং অনুকূল আবহাওয়ার জেরে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের দিকেও এই মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারসহ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে মালদা এবং দুই দিনাজপুরেও ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ একই রকম থাকতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং দুই মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও চব্বিশ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইতে পারে। ১৬ জুনের পর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও কিছু জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
ঝড় ও বজ্রপাত থেকে সতর্কতার নির্দেশ
মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করায় এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতার কারণে এই ঝোড়ো বৃষ্টিপাত ঘটছে। একটানা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া, কাঁচা বাড়ি বা অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতি হওয়া এবং গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা বিপজ্জনক কাঠামোর নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে জলাশয় থেকে দূরে থাকার এবং রাস্তায় যাতায়াতের সময় ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।
