মেডিক্যাল কলেজের প্রোমোশনে আর চলবে না দাদাগিরি! স্বজনপোষণ রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের – এবেলা

মেডিক্যাল কলেজের প্রোমোশনে আর চলবে না দাদাগিরি! স্বজনপোষণ রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল! মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপকদের বিভাগীয় পদোন্নতি (Departmental Promotion) নিয়ে আর কোনও ‘স্বজনপোষণ’ বা দুর্নীতির রেওয়াজ বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে ইন্টারভিউ বোর্ডে রাজ্যের কোনও সিনিয়র চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্তা থাকতে পারবেন না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইন্টারভিউ নিতে সরাসরি ভিন রাজ্য থেকে আসবেন নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র চিকিৎসকেরা। নতুন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর তরফে স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই এই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’ এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস’-এর মতো চিকিৎসক সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। সেই অভিযোগের অবসান ঘটাতেই এবার ভিন রাজ্যের পরীক্ষক আনার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্যদপ্তর।

বাতিল আগের প্যানেল, কাঠগড়ায় প্রাক্তন শাসকদল:

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের পদোন্নতির ইন্টারভিউয়ের পর একটি প্যানেল তৈরি হয়েছিল। সেই প্যানেল নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশ তীব্র আপত্তি জানালেও তৎকালীন সরকার তাতে কান দেয়নি। এমনকি নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে অপথ্যালমোলজি ও রেডিয়োলজি বিভাগের প্রফেসরের যে তালিকা প্রকাশ পায়, তাতে নাম থাকা এক চিকিৎসক সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের প্রার্থীও হয়েছিলেন!

সম্প্রতি স্বাস্থ‌্য-শিক্ষা অধিকর্তা এক নির্দেশিকা জারি করে আগের বিতর্কিত প্যানেলটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছেন এবং নতুন করে পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস’-এর সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “আগের প্যানেল বাতিলের নেপথ্যে যে বড়সড় স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি রয়েছে, তা স্পষ্ট। কারা এর সাথে জড়িত, তা প্রকাশ্যে আনা দরকার। আমরা মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছি।”

ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও বদলি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত:

শুধু পদোন্নতিই নয়, মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করার জন্যও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার থেকে নির্বাচন করানোর জন্য নির্দিষ্টভাবে একজন ‘চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার’ নিয়োগ করা হবে। তাঁর কড়া নজরদারিতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কারণে চিকিৎসকদের যেসব বদলি করা হয়েছিল, সেগুলিও পুনর্বিবেচনা করে দেখবে বর্তমান স্বাস্থ্যদপ্তর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *