তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ১৯ সাংসদের সই করা চিঠি প্রকাশ্যে, ২০ নম্বর কি কল্যাণ? – এবেলা

তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ১৯ সাংসদের সই করা চিঠি প্রকাশ্যে, ২০ নম্বর কি কল্যাণ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: লোকসভায় কি কার্যত অস্তিত্ব হারাতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস? প্রতিদিন যেভাবে দল ভাঙছে, তাতে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। এবার কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে গঠিত বিদ্রোহী শিবিরের ১৯ জন সাংসদের সই সংবলিত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় দেশের রাজনীতি। আইনিভাবে দলের রাশ মমতার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিদ্রোহী শিবিরে চাঁদের হাট, সই করলেন কারা?

প্রকাশ্যে আসা সেই চিঠিতে সই রয়েছে তৃণমূলের হেভিওয়েট সব মুখের। তালিকায় আছেন— কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মণ বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, মিতালি বাগ, মালা রায় এবং কালীপদ সোরেন। আর মাত্র একজন সাংসদ যোগ দিলেই এই সংখ্যা ২০-তে পৌঁছাবে।

অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আচমকা বিদ্রোহী কল্যাণ!

১৯ জনের পর ২০ নম্বর সাংসদটি কে, তা নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলীয় বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেকের আইনজীবীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

সরাসরি নেত্রীকে আলটিমেটাম দিয়ে কল্যাণের বিস্ফোরক ঘোষণা, “মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, দলে কে থাকবে— আমি না অভিষেক? ওর জন্যই দলটা শেষ হয়েছে, তাও উদ্ধত ভাব যায়নি।” ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০ নম্বর সাংসদ হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

মমতার শিবিরে আর কারা অবশিষ্ট?

বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে রয়েছেন মাত্র ৯ জন সাংসদ। তাঁরা হলেন— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদের মধ্যেও অনেকে এখনও দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে রয়েছেন। যদি এই ৯ জনের মধ্য থেকেও কেউ বিদ্রোহী শিবিরে চলে যান, তবে সংসদে আক্ষরিক অর্থেই দল হাতছাড়া হবে মমতার। এমনকি দিল্লির দলীয় কার্যালয়টিও হাতছাড়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *