ব্রিটেনের মধ্যস্থতা থেকে পিছু হটল নেপাল, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব! – এবেলা

ব্রিটেনের মধ্যস্থতা থেকে পিছু হটল নেপাল, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

লিপুলেখ সীমান্ত বিবাদ নিয়ে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ চাওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই অবস্থান বদল করল নেপাল। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনও পক্ষ নয়, ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদ মিটিয়ে নিতে চায় নেপাল সরকার। ভারতের কড়া মনোভাবের পরই প্রতিবেশী দেশটির এই আকস্মিক সুরবদল কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ

বুধবার নেপালের সংসদে বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, নেপাল-ভারত সীমান্ত সমস্যাটি সম্পূর্ণ রূপে দুই দেশের নিজস্ব বিষয়। ঐতিহাসিক চুক্তি, সমঝোতা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে চায় তারা। তিনি আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নেপাল-ভারত সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং অন্যান্য কারিগরি দলগুলি ফের পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। মূলত ‘দশগজা’ অঞ্চলের জবরদখল এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা দখলদারির যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী উত্থাপন করেছিলেন, তা সমাধানের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লির কড়া বার্তার জেরেই কি সুরবদল

ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে, যখন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ লিপুলেখ বিবাদ নিয়ে ব্রিটেনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন এবং এই আলোচনায় ব্রিটেনকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের দাদাগিরি বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। নয়াদিল্লির এই কড়া বার্তার কারণেই নেপাল নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ভারত সফরে এসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। এর ফলস্বরূপ বর্তমানে দুই দেশের বিশেষ কারিগরি দল অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সুনির্দিষ্ট মানচিত্র তৈরি, সীমান্ত স্তম্ভ নির্মাণ ও সংস্কার এবং জবরদখল রুখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ আগামী দিনে ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত করে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বড় প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *