সব সংকটের জন্য অভিষেককে কাঠগড়ায় তোলা অন্যায়, মুখ খুললেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদের দলত্যাগের জেরে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে এই টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য একাংশের নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেও, তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলের এই খারাপ হালের জন্য সমস্ত দায় একতরফাভাবে অভিষেকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই সংগত নয়।
দলের কোন্দল ও নেতৃত্বের বিরোধ
সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক ও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ারও আলটিমেটাম দিয়েছেন কল্যাণ। এই প্রসঙ্গে সৌগত রায় সংবাদসংস্থাকে জানান, ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলের আগে যাঁরা অভিষেকের জয়জয়কার করেছিলেন, তারাই এখন হঠাৎ সুর বদলেছেন। দলের বর্তমান বিপর্যয়, বিধায়কদের দলবদল ও রাজ্যসভার সাংসদদের পদত্যাগের কথা স্বীকার করে নিয়েও তিনি স্পষ্ট করেন, এর আগে কেউ কোনো ক্ষোভের কথা না জানালেও এখন সুবিধাবাদীভাবে সব দোষ অভিষেকের ঘাড়ে ফেলা হচ্ছে।
সায়নী ঘোষের অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রভাব
দলের এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের মধ্যে বড় ধাক্কাটি এসেছে সাংসদ সায়নী ঘোষের পক্ষ থেকে। লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠিতে সায়নীর স্বাক্ষর এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক দলের ভেতরের ফাটলকে আরও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এই বিষয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে সৌগত রায় জানান, মাত্র ৪-৫ দিন আগেও সায়নী তাঁর সঙ্গে ফোনালাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সায়নীর এই অবস্থান পরিবর্তন ও দলত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সিআইডি-র চাপ এবং অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে এই বিদ্রোহ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
