হরমুজে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঢাকতে এবার ইরানের ওপর দোষ চাপালেন ট্রাম্প! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়ন চলছে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল ইরান, যা মার্কিন বাহিনী ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে মার্কিন বাহিনীর হামলার দায় এড়ানোর এবং দ্বিপাক্ষিক অস্বস্তি ঢাকার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হামলার দায় ও ট্রাম্পের পাল্টা দাবি
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুন, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে পালাউ-পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার এবং গিনি-বিসাউ-পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এই দুটি জাহাজে মোট ৪৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন, যার মধ্যে মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকা এর দায় স্বীকার করে নেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দেয় এবং দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে এবং ওরাই মূলত ভারতীয় জাহাজগুলোর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। ট্রাম্প ইরানকে অত্যন্ত ‘অসৎ’ বলে উল্লেখ করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের ভুল শুধরে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে ঠিক কোন জাহাজকে মার্কিন বাহিনী রক্ষা করেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। এমনকি ইরান বা ভারত কেউই ট্রাম্পের এই ড্রোন হামলার দাবির বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
ভূ-রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের উপর্যুপরি হামলা এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর কারণে দিল্লির সাথে ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্কে সাময়িক ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা প্রশমন করতেই ট্রাম্প নিজেকে ভারতীয় জাহাজের রক্ষাকর্তা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই সরাসরি অভিযোগের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
