হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা! ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এক বিস্ফোরক দাবি করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসার সময় ভারতীয় জাহাজগুলির ওপর ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল ইরান। তবে সেই হামলা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “গত রাতে হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসার সময় ভারতীয় জাহাজগুলির ওপর ওরা (ইরান) ড্রোন হামলা চালায়, যা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তবে ট্রাম্প ঠিক কোন কোন জাহাজের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আমেরিকার অভিযানে সংকটে ভারতীয় নাবিকেরা:
ট্রাম্প যখন ইরানের দিকে আঙুল তুলছেন, ঠিক তখনই মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে ভারতের তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। গত ৮ জুন মার্কিন বাহিনী ‘মারিভেক্স’ নামের একটি ট্যাঙ্কারকে অচল করে দেয়, যদিও সেখান থেকে ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর দু’দিন পরেই ‘সেট্টেবেলো’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কারের ওপর মার্কিন হামলা চলে, যেখানে ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ৩ জন নিহত হন। এছাড়া বৃহস্পতিবার ‘জলবীর’ নামের আরও একটি ট্যাঙ্কার হামলার মুখে পড়ে, যাতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
মার্কিন কূটনীতিককে তলব দিল্লির:
একই সপ্তাহের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের ওপর পর পর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) আমেরিকা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এই নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে থাকা প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিকের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (DGS)।
শান্তি চুক্তির মাঝেই বাড়ছে উত্তেজনা:
মজার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে পর্দার আড়ালে আলোচনা চললেও প্রকাশ্যে দুই দেশ একে অপরকে বিঁধতে ছাড়ছে না। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, এই চুক্তি নিয়ে ইরান সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্য বা ‘ফেক নিউজ’ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের কথায়, “সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরান যা বলছে, তার সঙ্গে সত্যের কোনও সম্পর্ক নেই। তেহরান মোটেই সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করছে না।”
