আইনি নোটিস আর দলীয় বিদ্রোহের সাঁড়াশি আক্রমণে চরম সংকটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ও ফৌজদারি মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর লাগাতার তলব, আর অন্যদিকে দলের অন্দরে তীব্র গৃহযুদ্ধ— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। সিআইডি, ইডি থেকে শুরু করে কলকাতা পুরসভা এবং ভিনরাজ্যের আদালতও এখন তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের তীব্র চাপ
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার জট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বিধানসভায় সই জালিয়াতির মামলায় সিআইডি তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের তলব করেছে। এর পাশাপাশি, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, যার তদন্তভারও নিয়েছে সিআইডি। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে আগামী সোমবার তলব করেছে। শুধু তাই নয়, আমফানের ত্রাণ তহবিলের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং সাড়ে সাত বছর আগের একটি প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার ও বিষ্ণুপুর থানাতেও নতুন করে এফআইআর হয়েছে। এমনকি ত্রিপুরার খোয়াই আদালতও ২০২১ সালের একটি মামলায় তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। আইনি চাপের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাও তাঁর বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার নোটিস পাঠিয়েছে এবং তাঁর ২১টি সম্পত্তির খোঁজখবর শুরু করেছে। এই বহুমুখী আইনি তৎপরতার মূল কারণ হলো একের পর এক উঠে আসা আর্থিক অনিয়ম, উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।
দলের অন্দরে বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই বাহ্যিক আইনি সংকটের সমান্তরালে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন। দলের বিধায়ক থেকে শুরু করে লোকসভার সাংসদদের একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন, যা দলের অন্দরে গভীর ফাটল ও বিদ্রোহের ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দলীয় স্তরে এই কোণঠাসা অবস্থা এবং একের পর এক আইনি তদন্তের চাপ তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্ত চাপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন এবং তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে দমানো যাবে না বলে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
