অভিষেককে ছেলের তকমা দিয়ে সুর নরম প্রবীণ তৃণমূল সাংসদের, কল্যাণের ভোলবদল ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা – এবেলা

অভিষেককে ছেলের তকমা দিয়ে সুর নরম প্রবীণ তৃণমূল সাংসদের, কল্যাণের ভোলবদল ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের আবহ আচমকাই নাটকীয় মোড় নিল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণানোর মাত্র কয়েকদিনের মাথায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে শ্রীরামপুরের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ‘ছেলের মতো’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেন। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সংঘাতের আবহ থেকে হঠাৎ সমঝোতার সুর

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বর্তমান সংকটের জন্য অভিষেককে সরাসরি দায়ী করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অভিষেক না আমরা’—এই দুইয়ের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, দলনেত্রী অভিষেকের পাশে দাঁড়ালে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তবে শনিবার সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কল্যাণের কণ্ঠে শোনা গেল উল্টো সুর। তিনি বলেন, “অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের করা সব ভুল ক্ষমা করে দেওয়াই বাবার দায়িত্ব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আচমকা এই সুর নরম করার নেপথ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো সমঝোতার বার্তা থাকতে পারে।

গণতন্ত্রের সংকট ও বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা

একদিকে যখন দলের শীর্ষ স্তরের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে দেশের ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলগুলোর কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে, দলবদল বা লোকসভার স্পিকারের দ্বারে যাওয়ার জল্পনায় থাকা বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তাদের বিজেপির আশ্রয়েই যেতে হবে। পাশাপাশি, তৃণমূল ও কংগ্রেসের একীভূত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

বাসভবনে তল্লাশি ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নমনীয় অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়লা বা অন্য কোনো মামলার জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে সিআইডির ভোররাতের তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দেড় ঘণ্টার অভিযানে কোনো আপত্তিকর নথি মেলেনি এবং এটি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই হয়তো দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে একজোট হওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা। কল্যাণের এই সুর বদল তৃণমূলের অন্দরের অন্তর্কলহ সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে পারে, যা আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *