রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মমতাকে বিঁধলেন শোভনদেব! সুদীপ-বিতর্কে কালীঘাটের দোরগোড়ায় বিস্ফোরক প্রবীণ নেতা – এবেলা

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মমতাকে বিঁধলেন শোভনদেব! সুদীপ-বিতর্কে কালীঘাটের দোরগোড়ায় বিস্ফোরক প্রবীণ নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব এবং দলবদলের জল্পনা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিলেন দলেরই সবচেয়ে প্রবীণ বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কোনো চড়া সুর বা সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কবিগুরুর কবিতার লাইনে এক সুগভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে ঢোকার সময় সুদীপ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বালিগঞ্জের বিধায়ক। সেখানেই রুদ্ধকণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার শরণাপন্ন হন শোভনদেব। গম্ভীর গলায় তিনি আওড়ান—

“কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, বাঁশি সংগীতহারা,

অমাবস্যার কারা লুপ্ত করেছে আমার ভুবন দুঃস্বপনের তলে,

তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে…”

এর পরপরই আর কোনো রাখঢাক না রেখে, কবিতার শেষ লাইনের মোড়কে সরাসরি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি তিনি ছুঁড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে— “যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো, তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলার গণ্ডিতে থেকেও শোভনদেব যা বোঝানোর তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। দলের চরম দুঃসময়ে যাঁরা পিছন থেকে ছুরি মারছেন, তাঁদের প্রতি দলনেত্রী কেন বারবার নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন, সেই চোরা ক্ষোভ ও আক্ষেপই যেন এদিন প্রবীণ নেতার কণ্ঠে ঝরে পড়ল।

“বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি”, তীব্র কটাক্ষ কুণাল-কল্যাণ-সৌগতর:

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দলবদলের জল্পনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও। কুণাল ঘোষ সুদীপ ও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ”ওঁর যাওয়া মানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। একজন পরচুলওয়ালা লোক নয়, তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে।”

অন্যদিকে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি-সিবিআইয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, “রোজভ্যালি বা ইডি থেকে মাফ পাওয়ার জন্য গিয়েছে? এরা পশ্চিমবঙ্গের একটা কালো অধ্যায় হয়ে থেকে যাবে। সুদীপদা দলের কাছে একটা নতুন গাড়ি চেয়েছিল। দিদি অত্যধিক স্নেহ দিয়েছিলেন একে। সুদীপদার জন্যই তাপস রায় সহ অনেকে দল ছেড়ে চলে গিয়েছে।” আর বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের আক্ষেপ, “তিন-চার দিন আগেই বলেছিল কোথাও যাচ্ছে না। ও চলে গেলে আমি কী করব?”

সব মিলিয়ে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য দলবদলকে কেন্দ্র করে যে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার প্রকাশ্যে চলে এলো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *