‘বাই ওয়ান, গেট ওয়ান ফ্রি’, শতাব্দীর গাড়িতে সুদীপ! চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন কুণাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লিতে বিজেপি নেতার বাড়িতে শতাব্দী রায়ের গাড়িতে করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌঁছনোর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হওয়ার জল্পনা জোরালো হতেই দলের অন্দরে প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্য।
পুরনো বঞ্চনা ও কুণালের কটাক্ষ
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে শতাব্দীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরেই কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, সুদীপের জন্যই একসময় তাপস রায় এবং সজল ঘোষের মতো নেতাদের চরম অপমানিত হয়ে তৃণমূল ছাড়তে হয়েছিল। আজ সেই সুদীপই দলের বিপদের দিনে বিরোধী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে পরোক্ষে নিশানা করে কুণাল মন্তব্য করেন, এমন নেতাদের মাথায় তুলে রাখার জন্যই এই পরিণতি প্রাপ্য ছিল। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘বাই ওয়ান, গেট ওয়ান ফ্রি’ বলে কটাক্ষ করেন।
নীতিগত ভুল ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
একই সুরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দলের অতীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক ত্রুটিগুলি। তিনি দীনেশ ত্রিবেদী, পার্থ ভৌমিক এবং অর্জুন সিংয়ের উদাহরণ টেনে স্পষ্ট করেন যে, যাঁদের জন্য দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ তাঁরাই বিরোধী এনডিএ শিবিরে। দেবাংশুর মতে, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর দলত্যাগীদের পুনরায় স্বাগত জানানোর নীতিই দলের মধ্যে এই ভুল বার্তা দিয়েছিল যে, বিপদের দিনে সঙ্গ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে রাজত্ব করা যায়। দলত্যাগীদের প্রশ্রয় দেওয়ার সেই অতীত নীতিই আজকের এই পরিণতির মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এই সাম্প্রতিক ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে পুরনো কর্মীদের বঞ্চনা ও দলের ভুল পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভকে আরও প্রকট করে তুলল।
