রবিবারই কি আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি? ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করল তেহরান – এবেলা

রবিবারই কি আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি? ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করল তেহরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রবিবারই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, রবিবারই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তড়িঘড়ি চুক্তির সম্ভাবনা ও তেহরানের অবস্থান

ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম স্পষ্ট জানিয়েছে, রবিবার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলেও আমেরিকার পক্ষের কিছু অসংগতির কারণে এখনই চূড়ান্ত সমঝোতা আশা করা ভুল হবে বলে দাবি তেহরানের। তবে আগামী দিনগুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা তারা উড়িয়ে দেয়নি। এর আগে শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিকও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।

হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

আমেরিকা ও ইরানের এই দ্বিপাক্ষিক সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করেনি, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফেরাতে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত রফাসূত্র মেলেনি। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার দাবি করলেও তা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে এই বহু প্রতীক্ষিত চুক্তিটি ঠিক কবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও যথেষ্ট সংশয় ও কৌতূহল রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *