PF-এ টাকা জমালেই মিলবে ৭ লাখ টাকার বীমা! চাকরিজীবীদের জন্য কী নতুন সুবিধা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চাকরিজীবীদের জন্য বিরাট সুখবর, পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই মিলবে বিনামূল্যে ৭ লাখ টাকার জীবন বীমা! পিএফ বা প্রভিডেন্ট ফান্ডকে সাধারণত অবসর জীবনের সঞ্চয় হিসেবে দেখা হলেও, এর সাথে যুক্ত রয়েছে কর্মীদের পরিবারের জন্য এক বড় আর্থিক সুরক্ষা কবচ। ‘এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স’ বা ইডিএলআই (EDLI) নামক এই সরকারি স্কিমের মাধ্যমে চাকরি চলাকালীন কোনো কর্মীর অকাল মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার এই আর্থিক সহায়তা পাবে। অত্যন্ত লাভজনক এই স্কিমটি সম্পর্কে সাধারণ চাকরিজীবীদের অসচেতনতা দূর করতে এবং এর খুঁটিনাটি জানাতে এই প্রতিবেদন।
বিনামূল্যে কভারেজ এবং প্রিমিয়ামের সুবিধা
ইডিএলআই স্কিমের আওতায় ন্যূনতম আড়াই লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা কভারেজ পাওয়া সম্ভব। ২০২১ সালে এই ইন্স্যুরেন্সের সর্বোচ্চ সীমা ৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই বীমার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য কর্মীদের বেতন থেকে কোনো অর্থ বা প্রিমিয়াম কাটা হয় না। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা কো ম্পা নি তাদের নির্ধারিত ১২ শতাংশ পিএফ কন্ট্রিবিউশন থেকে ০.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম সরাসরি ইপিএফও-কে প্রদান করে। যে সকল সংস্থায় ২০ জনের বেশি কর্মী কর্মরত এবং পিএফ কাটে, সেখানকার সকল স্থায়ী কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার আওতাভুক্ত হন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার মূল শর্ত হলো, মৃত্যুর সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীকে চাকরিতে বহাল থাকতে হবে এবং তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্ট সচল থাকতে হবে।
নমিনি আপডেট না করার বড় ভুল এবং দাবি প্রক্রিয়া
তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বীমা দাবি বাতিল বা আটকে যায় শুধুমাত্র পিএফ অ্যাকাউন্টে সঠিক নমিনি বা উত্তরাধিকারীর নাম আপডেট না থাকার কারণে। কর্মীরা প্রায়শই বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর নাম কিংবা সন্তান হওয়ার পর সন্তানের নাম নমিনি হিসেবে যুক্ত করতে ভুলে যান। বর্তমানে ইউএএন (UAN) পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই আধার ওটিপি ব্যবহার করে মাত্র দুই মিনিটে নমিনেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
কোনো কর্মীর অকাল প্রয়াণে তাঁর পরিবার বা নমিনিকে এই অর্থ দাবি করার জন্য মৃত্যু শংসাপত্র, মৃত কর্মীর আধার কার্ড ও ব্যাংক পাসবুক এবং নমিনির আধার কার্ড ও ক্যানসেলড চেকের কপি জমা দিতে হবে। ‘ফর্ম ৫আইএফ’ পূরণ করে সরাসরি ইপিএফও অফিসে অথবা ২০২৪ সাল থেকে চালু হওয়া ইউএএন পোর্টালের ‘অনলাইন ডেথ ক্লেম’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। সমস্ত নথিপত্র সঠিক থাকলে আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে বীমার টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
