মন্ত্রীদের জন্য বিশেষ পাঠশালা, সুশাসনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরিতে কড়া বার্তা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরপরই সরকারি কাজের গতি বাড়াতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের প্রশাসনিক নিয়মকানুন ও আইনি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথমবার মন্ত্রিত্বের স্বাদ পাওয়া সদস্যদের সরকারি কাজের জটিলতা বোঝানো এবং সুশাসনের পথ তৈরি করাই ছিল এই বিশেষ শিবিরের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই শিবিরে উপস্থিত থেকে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের পাঠ দেন।
গতি ও স্বচ্ছতার নতুন সমীকরণ
শনিবার দুপুরে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রী। সুশাসনের লক্ষ্যে এই শিবিরে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ সহ শীর্ষ স্তরের আমলারা মন্ত্রীদের আইনি ও প্রশাসনিক নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে ধারণা দেন। এরপরই শিবিরে যোগ দিয়ে কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, মানুষের দরবারে মন্ত্রীদের নিজেদের সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে হবে। কোনো রকম অনৈতিকতা বা ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী লাল ফিতের ফাঁস কাটানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সরকারি ফাইল ফেলে রাখা যাবে না এবং দ্রুততার সঙ্গে সব ফাইলের নিষ্পত্তি করতে হবে বলে তিনি কড়া নির্দেশ দেন। এছাড়া, সরকারি পরিষেবা যাতে কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, জেলা বা বিভিন্ন এলাকায় সফরের সময় অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে জনমানসে দূরত্ব তৈরি করা চলবে না।
অভিজ্ঞতার অভাব দূর করার কৌশল
বর্তমান মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে দীর্ঘদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো মন্ত্রীদের কেন্দ্রীয় স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার সিংহভাগ সদস্যই এবার একদম নতুন মুখ। স্বাভাবিকভাবেই, প্রথমবার এমন বড় দায়িত্ব পাওয়ায় কাজের শুরুতে আইনি বাধ্যবাধকতা বা ফাইলের গতিবিধি বুঝতে সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মূলত এই অনভিজ্ঞতা জনিত জটিলতা কাটাতেই মেয়াদের শুরুতেই এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে। মন্ত্রীদের শুরুতেই জবাবদিহিতা ও নিয়মানুবর্তিতার পাঠ দেওয়ায় আমলাতন্ত্রের ওপর মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হবে, যা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে মানুষের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা আগামী দিনে প্রশাসনের কাজের ধরনে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে।
