সই জাল কাণ্ডে ভবানী ভবনে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তল্লাশি শেষেও মিলল না আপ্তসহায়কের খোঁজ! – এবেলা

সই জাল কাণ্ডে ভবানী ভবনে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তল্লাশি শেষেও মিলল না আপ্তসহায়কের খোঁজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির মুখোমুখি হতে দ্বিতীয় বারের জন্য ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই তিনি ভবানী ভবনের গোয়েন্দা দফতরে পৌঁছান। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করতেই তার এই হাজিরা। হাইকোর্ট এই মামলায় আগামী দুই সপ্তাহ অভিষেকের বিরুদ্ধে সিআইডিকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও রবিবার বিকেলে ভবানী ভবনে তলব করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও ভবানী ভবনের চিত্র

রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকেই সিআইডি আধিকারিকরা ভবানী ভবনে এসে উপস্থিত হন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‍্যাফ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বেলা ১১টা ৪৩ মিনিট নাগাদ অভিষেক সিআইডি দফতরে পৌঁছান এবং অভ্যর্থনা কক্ষে নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে হাজিরার খাতায় সই করে ভেতরে প্রবেশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও এই একই মামলায় তাকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি।

বিতর্কের উৎস ও নানামুখী আইনি চাপ

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে স্পিকারকে পাঠানো তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, সেই চিঠিতে বহু বিধায়কের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে এবং অনেকে সই না করার দাবিও জানিয়েছেন। উক্ত চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকের স্বাক্ষর থাকায় সিআইডি তাকে বারবার তলব করে। প্রথম দিকে হাজিরা এড়ালেও পরবর্তীতে হাইকোর্টের সুরক্ষাকবচ নিয়ে তিনি তদন্তের মুখোমুখি হন। সই জাল কাণ্ড ছাড়াও আগামী ১৫ জুন প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং ১৬ জুন সল্টলেকের একটি মামলার সূত্রে সিআইডি তাকে তলব করেছে, যেগুলোতে বর্তমানে তার কোনো আইনি রক্ষাকবচ নেই।

গভীর রাতে বাড়িতে পুলিশের হানা

সই জাল মামলার তদন্তের সূত্র ধরে শনিবার গভীর রাতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে মেলায় সেখানে অভিযানে যায় শালবনি থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করার পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ভোর রাতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সহায়তায় বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরও বাড়ি থেকে কোনো কিছু বাজেয়াপ্ত করা যায়নি এবং খোঁজ মেলেনি আপ্তসহায়কেরও। একের পর এক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার এই জোড়া তদন্তের প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *