শিশুর হাত থেকে মোবাইল কাড়লেই কি সে অবাধ্য হয়ে উঠছে? সমাধান লুকিয়ে আছে ৩টি সহজ উপায়ে! – এবেলা

শিশুর হাত থেকে মোবাইল কাড়লেই কি সে অবাধ্য হয়ে উঠছে? সমাধান লুকিয়ে আছে ৩টি সহজ উপায়ে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান যুগের অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশুদের অতিরিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি। ছোট ছোট শিশুরা এখন মোবাইল ফোনের দ্রুতগতির ছবি বা ভিডিও না দেখলে খাবার খেতে চায় না, এমনকি অন্য কোনো কাজও করতে চায় না। আর এই আসক্তি কাটাতে যখনই শিশুর হাত থেকে জোর করে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, তখনই দেখা দেয় চরম বিপত্তি। সন্তান জেদি, একগুঁয়ে ও বদমেজাজি হয়ে উঠছে এবং সামান্যতেই জিনিসপত্র ছুঁড়ে ভাঙচুর করছে।

মনোবিদদের মতে, এই আচরণের জন্য পুরোপুরি শিশুদের দোষ দেওয়া যায় না। যখন তাদের কাছ থেকে মোবাইল বা টেলিভিশনের রিমোটের মতো আকর্ষণীয় জিনিস কেড়ে নেওয়া হয়, তখন তাদের মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতা পূরণের সঠিক কৌশল না জানার কারণেই শিশুরা আগ্রাসী হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সংকট থেকে সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা তিনটি কার্যকরী উপায়ের কথা বলছেন।

জরুরি ফ্যামিলি টাইম ও সৃজনশীলতা

সন্তানকে শুধু খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখাই যথেষ্ট নয়, তার মনন গঠনে পরিবারের সবার সাথে সময় কাটানো বা ‘ফ্যামিলি টাইম’ অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকেরা ব্যস্ততার কারণে শিশুকে সময় না দিলে সে একাকীত্ব থেকে মোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নির্দিষ্ট করে সন্তানের সাথে গল্প করা এবং দিনে অন্তত একবেলা পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। এর পাশাপাশি শিশুকে রঙিন গল্পের বা ছবির বই কিনে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুর কল্পনার জগৎ উন্নত হয় এবং শুরু থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে স্মার্টফোনের প্রতি আকর্ষণ নিজে থেকেই কমে যায়।

ছোটখাটো কাজের দায়িত্ব প্রদান

শিশুকে ঘরের ছোটখাটো কাজের দায়িত্ব দিয়ে ব্যস্ত রাখা আরেকটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়। যেমন নিজের জন্য বা বাবা-মায়ের জন্য এক গ্লাস জল এনে দেওয়া, স্নানের জল তৈরি করতে সাহায্য করা কিংবা ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার মতো সাধারণ কাজে তাকে অভ্যস্ত করা প্রয়োজন। এর ফলে শিশু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করে এবং তার মনোযোগ মোবাইল স্ক্রিন থেকে সরে আসে।

মূলত শৈশবের পারিবারিক পরিবেশই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ আচরণের ভিত্তি তৈরি করে। তাই কেবল শিশুকে দোষারোপ না করে, অভিভাবক হিসেবে ধৈর্য ধরে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব বাবা-মাকেই নিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *