দল ভাঙার বড় ধাক্কার মাঝেই সামনে এল তৃণমূলের সাড়ে আটশো কোটি টাকার বিশাল ব্যাঙ্ক ব্যালান্স! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পনেরো বছরের শাসনক্ষমতা হারানোর পর বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গঠিত এই দলটিতে এখন ভাঙনের সুর তীব্র। বিধানসভা ও লোকসভা উভয় ক্ষেত্রেই দলে বড়সড় ধস নেমেছে। ৮০ জন দলীয় বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন এবং লোকসভার প্রায় ২০ জন সাংসদ বিক্ষুব্ধ শিবিরে পা বাড়ানোয় দলের অস্তিত্বই এখন প্রশ্নের মুখে। এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা চলায় জোড়াফুল প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। তবে এই চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও দলটির আর্থিক কোষাগার কিন্তু বেশ সমৃদ্ধ।
নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টে বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আপলোড করা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, দলটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, তৃণমূলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাধারণ জমা হিসেবে রয়েছে ৬২৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৪ টাকা। এছাড়া ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা আছে আরও ২৫০ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৩২২ টাকা। সব মিলিয়ে দলটির মোট ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। এর বাইরেও দলটির ঘরে ৫০ কোটি টাকার চেক এবং কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে নগদ ৩১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৮ টাকা রয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুতি এবং দলে একের পর এক ভাঙনের মূল কারণ হলো অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি তদন্তের ক্রমবর্ধমান চাপ। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের আলোচনা শুরু করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তবে রাজনৈতিকভাবে দল দুর্বল হলেও এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক শক্তি নির্বাচনী লড়াই বা দল পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দল যদি চূড়ান্তভাবে বিভক্ত হয়ে যায় কিংবা প্রতীক হাতবদল হয়, তবে এই সাড়ে আটশো কোটি টাকারও বেশি তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ নিতে পারে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
