ইন্ডি জোটে তীব্র ফাটল, রাহুলকেও ‘বিজেপি-বন্ধু’ তকমা সিপিএমের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেরল বিধানসভা নির্বাচনের রেশ এবার আছড়ে পড়ল জাতীয় রাজনীতিতে। বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডি’-তে কংগ্রেস ও বামেদের সম্পর্কে তীব্র ফাটল দেখা দিয়েছে। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে ঘিরে রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্য এবং তার পাল্টা জবাবে সিপিএম নেতাদের আক্রমণাত্মক বিবৃতিতে জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ও কারণ
চলতি বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু গত ৮ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের বৈঠক এবং তৎপরবর্তী একটি অডিও ফাঁসের ঘটনা। ওই বৈঠকে কেরলের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কড়া সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিজয়ন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করেছেন। এই মন্তব্যের অডিও কংগ্রেস প্রকাশ করার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এবং পিনারাই বিজয়ন উভয়েই রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন। বেবি স্পষ্ট জানান, লোকসভার বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয় এবং তিনি যেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিজেপি ও ইডিকে সহযোগিতা না করেন। অন্যদিকে, বিজয়ন ২০১৪ সালে সংসদে নরেন্দ্র মোদীকে রাহুলের আলিঙ্গন করার বিষয়টি টেনে এনে পাল্টা কটাক্ষ করেন। সম্প্রতি কেরলে বিজয়নের বাড়িতে ইডি তল্লাশিতে কংগ্রেসের সমর্থন এবং সিপিএমের বিরোধিতাও এই দুই দলের তিক্ততা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জোটের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কেরলের গণ্ডি পেরিয়ে এই সংঘাতের আঁচ পড়েছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ুতেও। সেখানে বামেদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই বিজয়ের দলকে সরকার গড়তে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। বিনিময়ে তারা মন্ত্রিসভায় দুটি পদও পেয়েছে। বামেরা এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেও, রাহুল গান্ধী তা বিজেপির আধিপত্য ঠেকানোর কৌশল হিসেবেই দাবি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরল ও তামিলনাড়ুকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে যে অবিশ্বাস ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে, তা জাতীয় স্তরে ইন্ডি জোটের ঐক্যকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। দ্রুত এই মতবিরোধ না মিটলে আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের লড়াই কার্যত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
