বারুদের গন্ধ পেরিয়ে অবশেষে শান্তি, রবিবারে ইরান-আমেরিকা ঐতিহাসিক চুক্তিতে খুলছে হরমুজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বারুদের গন্ধ পেরিয়ে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বড় ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, রবিবার ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই করতে চলেছে আমেরিকা। এই চুক্তির সরাসরি প্রভাবে ইরান কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কড়া লাগাম
এই ঐতিহাসিক চুক্তির পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে ওবামা আমলের পরমাণু চুক্তিটি (জেসিপিওএ) ছিল অত্যন্ত শিথিল, যার কারণে ইরান সহজেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারত। তবে বর্তমান চুক্তিটি তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এটি ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং বাকি থাকা পারমাণবিক উপাদানগুলো বি-২ বোমারু বিমানের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। ফলে তেহরান আর কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, ক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করতে পারবে না।
স্বস্তিতে বিশ্ববাজার ও ভারত
আমেরিকা ও ইরানের এই সমঝোতার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়, যা সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। যুদ্ধের কারণে ইরান এই পথ রুদ্ধ করায় এবং মার্কিন রণতরীগুলোর পাল্টা অবস্থানের ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশসহ গোটা বিশ্বের জ্বালানি সংকট কেটে যাবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় স্বস্তি ফিরবে।
