হরিদ্বার বা বারাণসীকে ছাপিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ডের মুখে কলকাতার গঙ্গা – এবেলা

হরিদ্বার বা বারাণসীকে ছাপিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ডের মুখে কলকাতার গঙ্গা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে কলকাতার গঙ্গাবক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব মেগা যোগ কার্নিভাল। সম্পূর্ণ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৫০০টি নৌকোয় ভাসমান অবস্থায় যোগাভ্যাস করবেন কয়েক হাজার মানুষ। অতীতে হৃষীকেশ, হরিদ্বার কিংবা বারাণসীর পবিত্র ঘাটে বড় আকারের যোগ শিবিরের নজির থাকলেও, চলমান নদীর বুকে এত বড় আয়োজন এবারই প্রথম। এই অনন্য উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিরা। ফলে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে নদীমাতৃক বাংলা।

হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের মহাসম্মিলন

আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান ও যোগ-প্রাণায়ামে বাংলার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব থেকে শুরু করে যোগিরাজ श्यामাচরণ লাহিড়ী এবং পরবর্তীকালে মনোহর আইচের মতো ব্যক্তিত্বরা বিশ্বমঞ্চে বাঙালির শারীরিক ও আত্মিক উৎকর্ষের নজির গড়েছেন। তবে গত কয়েক দশকে যোগজগতে বাংলার সেই গৌরব কিছুটা ম্লান হয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সেই হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার এবং বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতেই এই মেগা কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন ভারতের আত্মিক উৎকর্ষের একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

গঙ্গাপাড় জুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি

ঐতিহাসিক এই যোগ কার্নিভালের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক, বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট এবং হুগলি নদীর অপর পাড়ের বেলুড় ও দক্ষিণেশ্বর। এই অনুষ্ঠানকে সফল করতে নৌসেনা ও কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে নৌকোর আবেদন জানানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থলের রেইকি বা প্রাথমিক পরিদর্শন শেষ করেছেন। মেগা ইভেন্টের নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজি আয়ুশ দিব্যা লোগনাথনকে। যোগাভ্যাসের পাশাপাশি গঙ্গার দুই পারের আকাশ জুড়ে থাকবে চোখ-ধাঁধানো ড্রোন শো এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হাওড়া ব্রিজ থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগর সেতু এবং নদীর দুই পারের প্রায় ৪২টি বহুতল ভবনকে আলোকমালায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মহড়া

ভাসমান এই মেগা কার্নিভালের ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হবে কলকাতার রেড রোডে। সেখানে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মূলত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রধান আকর্ষণ হিসেবেই এর আগের দিন গঙ্গাবক্ষে এই বিশাল মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার থেকেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং হাওড়া ফেরিঘাটে পর্যটন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিশেষ যোগ অনুশীলন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং গিনেস রেকর্ডের এই হাতছানি আন্তর্জাতিক স্তরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *