মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঘিরে তুঙ্গে তরজা, মোদিকে ‘অনুগত ভৃত্য’ কটাক্ষ রাহুলের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যতরীতে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশের পরিবর্তে কার্যত ভারতকে প্রচ্ছন্ন ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, মার্কিন ‘দাদাগিরি’র সামনে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও মার্কিন অনড় অবস্থান
ঘটনার সূত্রপাত ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর একটি অভিযানকে কেন্দ্র করে, যেখানে প্রাণ হারান তিন জন নিরীহ ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনার পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং স্পষ্ট জানান যে এই হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মার্কিন বিদেশমন্ত্রক দুঃখপ্রকাশের বদলে উলটে এক বিবৃতিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই অবরোধ জারি করা হয়েছে এবং সেখানে অবরোধ লঙ্ঘন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় মনোভাবকে কূটনৈতিক মহলের একাংশ ভারতের প্রতি একপ্রকার ‘শাসানি’ হিসেবেই দেখছে।
‘অনুগত ভৃত্য’ কটাক্ষ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
আমেরিকার এই আগ্রাসী ভূমিকাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র নিশানা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পরও আমেরিকা যেভাবে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মোদি দেশের সম্মান রক্ষা না করে ‘অনুগত ভৃত্যের’ মতো মার্কিন নির্দেশ মেনে চলছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও আমেরিকার এই মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে ভারতের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মূলত ওমান সংলগ্ন কৌশলগত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর কঠোর নৌ-অবরোধ এবং তা কার্যকরের আগ্রাসী প্রচেষ্টাই এই অনভিপ্রেত মৃত্যুর প্রধান কারণ। এই ঘটনার ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কে সাময়িক বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও বিদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে মোদি সরকারের বিদেশ নীতিকে আগামী দিনে ঘরোয়া রাজনীতিতে আরও বড় চাপের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
