আমেরিকার এক সিদ্ধান্তেই কি রেকর্ড পতন হতে চলেছে সোনার দামে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত কয়েক বছরে রেকর্ড ছুঁয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার পর বিশ্ববাজারে বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে ইতিমধ্যেই হলুদ ধাতুর দাম প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও সোনার বাজারে এই বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত যুদ্ধ শুরু হলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, আগামী দিনে সোনার দাম আরও কমতে পারে, যা চড়া দামে সোনা কেনা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের কড়া নীতি ও ডলারের শক্তি
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পেছনে মূল কারণ মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেড যদি সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার আন্তর্জাতিক দর কমে যায়। স্টেট স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কমোডিটি এক্সপার্ট আকাশ দোশি জানিয়েছেন, মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং ডলারের ঊর্ধ্বগতি বর্তমানে সোনার মূল্যের ক্ষেত্রে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দাম আরও কমার পূর্বাভাস ও বাজারের প্রভাব
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ছিল ৫,৫৯৫ ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪,২২২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা ইউবিএস (UBS)-এর অনুমান অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে এই পতন আরও তীব্র হতে পারে এবং সোনার দাম প্রতি আউন্স ৩,৮৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারে নেমে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পতনের প্রভাব ভারতীয় বাজারেও স্পষ্ট। দেশের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এমসিএক্স-এ (MCX) প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫০,৬৭৫ টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে সোনার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। যদি সুদের হার আরও বাড়ে, তবে সোনার বাজারে এই মন্দাভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
