হয় অভিষেক নয় জোড়াফুল! চরম সংকটে মমতাকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল বিক্ষুব্ধ শিবির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চরম অন্তর্কলহে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে এবার খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কঠিন শর্ত ঝুলিয়ে দিল দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লে তবেই তাঁরা মমতাকে নেত্রী হিসেবে মানবেন। অন্যথায় আইনি পথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিজেদের দখলে নিয়ে তাঁরা নতুন দল পরিচালনা করবেন।
ক্ষোভের কেন্দ্রে অভিষেক, বিদ্রোহী ৬৪ বিধায়ক
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জয়ী ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬৪ জন দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে ‘নব্য তৃণমূল’ ফ্রন্ট গঠন করেছেন। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এই গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দলে এই ভাঙনের সূত্রপাত। প্রথমদিকে দলনেত্রীর অভিভাবকত্ব মেনে নেওয়ার কথা বললেও, এবার সরাসরি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গ না ছাড়লে দলনেত্রীর নেতৃত্বও তাঁরা অস্বীকার করবেন।
সংসদেও ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধায়কদের পাশাপাশি লোকসভাতেও চওড়া হয়েছে ভাঙনের ফাটল। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী ২২ জন সাংসদও আলাদা ফ্রন্ট গঠনের পথে হাঁটছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এই বিপর্যয় সামাল দিতে তৃণমূল কংগ্রেস ফের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা থেকেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিদ্রোহী নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শর্ত না মানলে আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক বিভাজন ও হাতছাড়া হতে পারে দলীয় প্রতীক, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।
