কলকাতা ছাড়ছে এসবিআইয়ের তিন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ! সঙ্কটে বাঙালির কর্মসংস্থান ও রাজ্যের রাজস্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে যখন নতুন করে শিল্প ও বিনিয়োগ টানার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা কলকাতার বুকে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) কলকাতা থেকে তাদের চেক ক্লিয়ারিং, অ্যাকাউন্ট ওপেনিং এবং পেনশন সংক্রান্ত তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ভিন রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার নীল-নকশা তৈরি করেছে। ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি পূর্ব ভারতের আর্থিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার গুরুত্বও ক্ষুণ্ণ হবে।
বিপুল কাজের চাপ সত্ত্বেও দিল্লির সঙ্গে সংযুক্তির সিদ্ধান্ত
এসবিআইয়ের কলকাতা চেক ক্লিয়ারিং সেল (সিসিপিসি) বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং আন্দামান-নিকোবরের দায়িত্ব সামলায়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার ইনওয়ার্ড চেক এখানে প্রসেস হয়, যা গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এত বিপুল কাজ হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাঞ্চলের জন্য আলাদা কোনও গ্রিড না বানিয়ে কলকাতা ও গুয়াহাটির সিসিপিসি-কে দিল্লির ‘নর্দার্ন গ্রিড’-এর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের আশঙ্কা, এর ফলে সাধারণ গ্রাহক পরিষেবা বিপর্যস্ত হবে এবং উচ্চমূল্যের চেক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষায় বা বাংলায় যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজস্ব ক্ষতি ও বদলির খাঁড়ায় ব্যাঙ্ক কর্মীরা
এর আগে কলকাতার বিদেশি মুদ্রা বিভাগের (জিএমইউ) কাজ মুম্বইয়ে সরিয়ে নেওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকার জিএসটি রাজস্ব হারিয়েছিল এবং বহু আউটসোর্স কর্মী ও ভেন্ডর কাজ হারিয়েছিলেন। এবার নতুন করে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং সেল এবং পেনশন প্রসেসিং সেন্টার স্থানান্তরিত হলে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ৩৫০ জন স্থায়ী কর্মীকে দূরবর্তী রাজ্যে বদলি হতে হবে, যার মধ্যে বহু মহিলা ও প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনাও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হয়ে ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি, কলকাতাকে দিল্লির অধীনে না পাঠিয়ে একেই পূর্বাঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন গ্রিড হিসেবে গড়ে তোলা হোক, যাতে রাজ্যের রাজস্ব এবং বাঙালির কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকে।
