তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস, কোন কৌশলে রাতারাতি অনামি এনসিপিআই দলে যোগ দিলেন লোকসভার ২০ বিদ্রোহী সাংসদ? – এবেলা

তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস, কোন কৌশলে রাতারাতি অনামি এনসিপিআই দলে যোগ দিলেন লোকসভার ২০ বিদ্রোহী সাংসদ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা শিবিরে নজিরবিহীন ভাঙন ধরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ সহ প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যোগ দিলেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে। ২০২৩ সালে ত্রিপুরার নির্বাচনে মাত্র ৮০০ ভোট পাওয়া এই নামসর্বস্ব ও কার্যত অস্তিত্বহীন দলে কেন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদেরা যোগ দিলেন, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। মূলত মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করা, দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক অসন্তোষ এবং সুদূরপ্রসারী আইনি কৌশল থেকেই মাত্র এক সপ্তাহের নাটকীয় অধ্যায়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বিদ্রোহীরা।

আইনি জটিলতা এড়ানো ও দলত্যাগবিরোধী আইনের ফাঁদ

তৃণমূলের রাজ্য বিধানসভার বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা যখন ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আইনি লড়াই ও ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, তখন লোকসভার সাংসদেরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিরাপদ কৌশল নিয়েছেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে লোকসভার বিদ্রোহীরা কোনো আইনি ঝামেলায় জড়াতে চাননি। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের (অর্থাৎ ২০ জন) সমর্থন এই বিদ্রোহীদের পক্ষে থাকায় তারা সহজেই দলত্যাগবিরোধী আইনের ফাঁদ এড়াতে পেরেছেন এবং লোকসভার স্পিকারকে আগেই চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। দলের নাম, প্রতীক বা তহবিলের নিয়ন্ত্রণ মমতার ঘনিষ্ঠদের হাতেই ছেড়ে দিয়ে তারা সম্পূর্ণ নতুন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছেন। এছাড়া, তৃণমূলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে সাংগঠনিক পদাধিকারীদের ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় সাংসদদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তৃণমূল কখনো কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আগেভাগে এই অনামি দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন বিদ্রোহীরা।

নেপথ্যে বিজেপি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

এই আকস্মিক দলবদলের নেপথ্যে বিজেপির সক্রিয় পরিচালনা ও আঁতাত এখন সম্পূর্ণ স্পষ্ট। বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোতে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই বিদ্রোহী সাংসদদের সমস্ত বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এই সাংসদদের সরাসরি নিজেদের দলে সামিল না করে লোকসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের কাজে ব্যবহার করতে আগ্রহী। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও একই নীতি নিতে পারে বিজেপি। ইতিমধ্যে কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দেওয়ায় সেই শূন্য আসনগুলোতে বিজেপি নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে রাজ্যসভাতেও পাঠাতে পারবে। ফলে এই দলবদলের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে যেমন এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি পাবে, তেমনই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা ও অবস্থান বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়বে।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *