অনুমতিহীন ছুটির দিন শেষ, চিকিৎসকদের ১১ বছরের ফাইল তলব করল স্বাস্থ্যদপ্তর – এবেলা

অনুমতিহীন ছুটির দিন শেষ, চিকিৎসকদের ১১ বছরের ফাইল তলব করল স্বাস্থ্যদপ্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ফেরাতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্যদপ্তর। বিনা অনুমতিতে দিনের পর দিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকা সরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এবার কড়া নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। বিগত ১১ বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ছুটির খতিয়ান খতিয়ে দেখতে দ্রুত ফাইল তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন।

কলকাতায় প্র্যাকটিস ও জেলায় অনুপস্থিতি

অভিযোগ দীর্ঘদিনের। খাতায়-কলমে উত্তরবঙ্গ বা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মতো জেলা স্তরের হাসপাতালের অধ্যাপক বা চিকিৎসক হলেও, তাঁদের অনেকেই সপ্তাহের অধিকাংশ সময় কাটাতেন কলকাতায়। বিগত সরকারের আমলে জেলার সরকারি হাসপাতালে নাম নথিভুক্ত রেখে অন্যত্র চুটিয়ে ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস করার এই প্রবণতা একপ্রকার রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। ডিউটির নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনুমতি ছাড়াই দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকতেন এই চিকিৎসকদের একাংশ। গ্রামীণ ও জেলা স্তরের চিকিৎসাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার এই চক্র ধরতেই এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

সাত দিনের সময়সীমা ও ডিজিটাল নজরদারি

স্বাস্থ্যদপ্তরের জারি করা নতুন সার্কুলারে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে বিগত ১১ বছরে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবা, ডেন্টাল পরিষেবা এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পরিষেবার অধীনে থাকা সমস্ত মেডিক্যাল অফিসার, স্পেশালিস্ট ও ডেন্টাল সার্জনদের উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ), মেডিক্যাল কলেজের সুপার, ভাইস প্রিন্সিপাল এবং অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্টদের নির্দিষ্ট পোর্টালের লিঙ্ক পাঠিয়ে এই তথ্য আপলোড করতে বলা হয়েছে। জমাদানের আগে তথ্যসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার নির্দেশও রয়েছে।

পরিষেবায় প্রভাব ও মূল কারণ

জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরানো এবং চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। বছরের পর বছর ধরে চলা এই গাফিলতির কারণে গ্রামীণ ও জেলা স্তরের রোগীরা সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও যথেচ্ছ প্র্যাকটিসের প্রবণতায় লাগাম টানা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনই জেলা স্তরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পরিষেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *