ঝামেলাহীন তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের স্বপ্ন কি এবার সত্যি হবে, আইআরসিটিসি আনছে নতুন ওয়েবসাইট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) তাদের টিকিট বুকিং পোর্টালে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে চলেছে। আইআরসিটিসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট বুক করেন এমন কোটি কোটি যাত্রীর জন্য এটি অত্যন্ত বড় একটি সুখবর। তৎকাল টিকিট কাটার সময়ে ওয়েবসাইট ক্র্যাশ হওয়া, ধীর গতি কিংবা বারবার জটিল ক্যাপচা পূরণ করার মতো দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। রেলমন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন রূপ ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে আইআরসিটিসি-র এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
বদলে যাচ্ছে ইউজার ইন্টারফেস, মিলবে দ্রুত টিকিট
রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে টিকিট বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। নতুন সাইটের ইউজার ইন্টারফেস (UI) এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যা আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব হবে। এর ফলে নতুন কোনো যাত্রীও প্রথমবার সাইটে এসে খুব সহজে কোনো ঝামেলা ছাড়াই টিকিট কাটতে পারবেন। সবথেকে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে সিস্টেমের ব্যাকএন্ড পরিকাঠামোয়। ব্যস্ত সময়ে যখন একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ লগ-ইন করার চেষ্টা করবেন, তখনও যাতে অতিরিক্ত ট্র্যাফিকের চাপে সার্ভার ডাউন বা ক্র্যাশ না হয়, সেই সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
জটিল ক্যাপচা থেকে মুক্তি এবং সহজ রিফান্ড
নতুন ওয়েবসাইটের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে ক্যাপচা সিস্টেমের সরলীকরণ। তৎকালের মতো দ্রুততম সময়ে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে বারবার জটিল ক্যাপচা পূরণ করা যাত্রীদের জন্য একটি বড় হেনস্থা ছিল। নতুন প্রযুক্তিতে এই ক্যাপচা প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি পিএনআর (PNR) স্ট্যাটাস চেক করা, টিকিট বাতিলের পর রিফান্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার তথ্য জানার প্রক্রিয়াটিও আগের চেয়ে অনেক সহজ ও স্বচ্ছ করা হবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীর অভিযোগে নড়েচড়ে বসল রেলমন্ত্রক
আইআরসিটিসি-র এই ভোল বদলের পেছনে রয়েছে জয়পুরের মালভিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (MNIT Jaipur) এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী লাবিশা মীনার অভিযোগ। একটি অনুষ্ঠানে তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সামনে আইআরসিটিসি ওয়েবসাইটের ধীর গতি ও ক্যাপচা বিভ্রাটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রেলমন্ত্রী অবিলম্বে কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি উন্নত করার নির্দেশ দেন। এরপরই রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই ছাত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে নতুন ওয়েবসাইটের একটি প্রোটোটাইপ দেখান এবং তাঁর প্রযুক্তিগত পরামর্শ গ্রহণ করেন।
ডিজিটাল পরিষেবার আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্ত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে দেশের কোটি কোটি রেলযাত্রী সরাসরি উপকৃত হবেন এবং দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজে ঘরে বসে নির্বিঘ্নে পছন্দের টিকিট কাটতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
