পোড়া ক্ষত সারাবে তেলাপিয়া মাছের ছাল! চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার – এবেলা

পোড়া ক্ষত সারাবে তেলাপিয়া মাছের ছাল! চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগুনে পোড়া ঘা বা দগদগে ক্ষতের চিকিৎসায় এবার আর দামি অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা সাধারণ ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হবে না। ফেলে দেওয়া তেলাপিয়া মাছের চামড়া ব্যবহার করেই পোড়া ক্ষতের সফল চিকিৎসা সম্ভব বলে প্রমাণ করেছেন ব্রাজিলের একদল গবেষক ও চিকিৎসক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই অভিনব পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়োলজিক্যাল ড্রেসিং’। সহজলভ্য একটি বর্জ্য উপাদানকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা জগতে এই আবিষ্কার এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

তেলাপিয়া মাছের চামড়ার জাদুকরী গুণ

মানুষের ত্বকের কোষীয় কাঠামো এবং টিস্যু পুনর্গঠনের জন্য কোলাজেন প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপিয়া মাছের ত্বকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা এবং টাইপ-১ কোলাজেন প্রোটিন রয়েছে যা মানুষের ত্বকের প্রায় সমতুল্য। ফলে পোড়া অংশে এটি দ্রুত নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া তেলাপিয়ার চামড়ায় থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং প্রাকৃতিক অ্যানালজেসিক হিসেবে রোগীর তীব্র যন্ত্রণা উপশমে দারুণ কাজ করে।

সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও ব্যাপক সম্ভাবনা

ল্যাবরেটরিতে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার পর তেলাপিয়ার চামড়া সরাসরি রোগীর পোড়া অংশে বসিয়ে সাধারণ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। প্রায় ১০ দিন পর এই প্রলেপ তুললে দেখা যায় ভেতরের ক্ষত সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে গিয়েছে। প্রথাগত গজ-ব্যান্ডেজ খোলার সময়কার তীব্র যন্ত্রণাও এই পদ্ধতিতে থাকে না। ইতিমধ্যে ৫৬ জন রোগীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে এই পদ্ধতির অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে। এই বায়োলজিক্যাল ড্রেসিংয়ের ফলে প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে যাবে, যা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জন্য পোড়া ক্ষতের চিকিৎসাকে অনেক বেশি সহজলভ্য ও যন্ত্রণাহীন করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *