৭২ ঘণ্টায় ‘জেরার হ্যাটট্রিক’! সিআইডি-ইডি-সিআইডি চক্করে জেরবার অভিষেক, মঙ্গলে সাড়ে ৬ ঘণ্টা ভবানী ভবনে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রবিবারে সই জাল কাণ্ড, সোমবারে প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি আর মঙ্গলবারে উস্কানিমূলক মন্তব্য বিতর্ক— গত তিন দিনে তিন পৃথক মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের তদন্তকারীদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ‘ডিজে’ বাজানো সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের জেরে সিআইডি (CID)-র তলবে ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানে টানা সাড়ে ছ’ঘণ্টা জেরার পর, অবশেষে সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরোন।
সূত্রের খবর, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি-কে জানিয়েছেন যে কোনও উস্কানি দেওয়ার জন্য তিনি ওই মন্তব্য করেননি। রাজনৈতিক ভোটের প্রচারে বিভিন্ন রকম কথা বলা হয়ে থাকে, এটিও সেরকমই একটি রাজনৈতিক বক্তব্য। দলীয় কর্মীদের ভোটের ময়দানে সাহস যুগিয়ে লড়াই করার জন্যই তিনি ‘ডিজে’-র কথা বলেছিলেন।
ভোটগণনা পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ‘ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে কান ঝালাপালা করে দেব!’ তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যকে উস্কানিমূলক দাবি করে সল্টলেকের সাইবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই গত শুক্রবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে নোটিস ধরিয়ে এসেছিলেন। সেই নির্দিষ্ট সময় মেনেই এদিন দুপুর ১২টার কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে ঢোকেন অভিষেক।
গত ৭২ ঘণ্টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে পর পর তিন দিন ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের ধকল পোহাতে হল, তা রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন:
- প্রথম দিন (রবিবার): বিধানসভায় সই জাল মামলার তদন্তে ভবানী ভবনেই সিআইডি-র মুখোমুখি হন তিনি। সেদিন তাঁকে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জেরা করা হয়। বিকেলে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও সেখানে ডেকে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছিল।
- দ্বিতীয় দিন (সোমবার): প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দফতরে হাজিরা দেন তিনি। সেখানে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের প্রশ্নবাণের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে।
- তৃতীয় দিন (মঙ্গলবার): পূর্ববর্তী দু’দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন ফের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে সিআইডি-র সাড়ে ছ’ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার মুখে পড়লেন তিনি। এই মামলায় তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়েছে কি না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
