“১৫ বছর ধরে শুধু ডানদিকে তাকালে তো ঘাড়ে স্পন্ডিলাইটিস হবে!” বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির খোঁচা ঋতব্রতর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে রাজ্য বিধানসভায় আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস সংসদীয় দল’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি এবার নাম না করে বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করলেন নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে এক চরম দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছিল।
বিগত ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল জমানার সংসদীয় রীতিনীতির কড়া সমালোচনা করে ঋতব্রত বলেন, বিগত ১৫ বছরে এই বিধানসভার অন্দরে যা ঘটেছে, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে কাম্য ছিল না। দেশের মধ্যে এই রাজ্যে সবচেয়ে কম দিন বিধানসভার অধিবেশন বসত দাবি করে তিনি বলেন, বছরে গড়ে ১৫ দিনের বেশি অধিবেশন চালানোই হতো না, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে এবার নতুন সরকারের জমানায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা সময় বরাদ্দ হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।
“শুধু ডানদিকে তাকালে তো স্পন্ডিলাইটিস হবে”
সরাসরি নাম না নিলেও প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের একতরফা বিধানসভা পরিচালনার দিকে ইঙ্গিত করে বেনজির আক্রমণ শানিয়েছেন ঋতব্রত। হাসিম আব্দুল হালিমের মতো কিংবদন্তি স্পিকারের নিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “বিধানসভা চালাতে গেলে অধ্যক্ষকে সবসময় সোজা তাকাতে হয়। কিন্তু যদি একজন অধ্যক্ষ পনেরো বছর ধরে শুধু ডানদিকে তাকিয়েই বসে থাকেন, তাহলে তো তাঁর ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিস হয়ে যাওয়ার কথা! ওঁর সেটা হয়েছে কিনা অবশ্য আমি জানি না।”
মুখের লিউকোপ্লাস্ট ও ‘দুধ কা দুধ, জল কা জল’র চ্যালেঞ্জ:
অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা ‘মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকুন’ মন্তব্যকে মনে করিয়ে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “দশ বছর মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকাটা গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল নয়। আশা করছি, বিধানসভার গত ১৫ বছরের সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ কাটিয়ে এবার বিরোধীরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন।”
বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট জানান, “গত ৩ জুন আমি বিরোধী দলনেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছি। আমাদের দিকে কতজন বিধায়ক আছেন তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের বলি, প্রায় ৯৮ শতাংশ বিধায়ক এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষেই রয়েছেন। ক্ষমতা থাকলে ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোট করিয়ে নেওয়া হোক, তাহলেই ‘দুধ কা দুধ, জল কা জল’ হয়ে যাবে।”
