আস্থা ভোটের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর, ৯৮ শতাংশ বিধায়ক সঙ্গে থাকার দাবি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র টানাপোড়েনের মাঝেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সরাসরি ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য আস্থা ভোট করানো হোক, তাহলেই সমস্ত সংশয় দূর হয়ে যাবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁদের শিবিরই হল প্রকৃত ‘তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল’ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৯৮ শতাংশ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের দিকেই রয়েছে।
আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি ও ফ্লোর টেস্টের ডাক
গত ৩ জুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই নিজের সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি শাসক শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, ক্ষমতা থাকলে আস্থা ভোট করিয়ে নেওয়া হোক। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার শক্তি কতটুকু, তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাবে। দল ভেঙে আলাদা ব্লক তৈরি হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবেই দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে রাজ্যের মানুষের দেওয়া রায়কে অস্বীকার করার প্রবণতাকে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অশনিসংকেত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পরাজয় অস্বীকার এবং শাসক শিবিরের সম্ভাব্য শক্তিক্ষয়
ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া এবং ইভিএম কারচুপির অভিযোগকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ঋতব্রত। তাঁর মতে, জিতলে মানুষের রায় আর হারলেই ইভিএমের দোষ দেওয়া আদতে এক ধরণের স্বৈরাচারী মানসিকতা। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের অন্যতম কারণ হলো সাম্প্রতিক জনমতকে শাসক দলের একাংশের মেনে নিতে না পারা। অন্যদিকে, এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বিধানসভায় শাসক দলের বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের বিক্ষুব্ধ শিবিরের ৬৫ জন বিধায়কের পাশাপাশি অন্য অনেকেও এখন তাঁদের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে শাসক দল যে বিধানসভার অন্দরে আরও বড় শক্তিক্ষয়ের মুখে পড়তে চলেছে, সেই বার্তাই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
