সিনেমার পর্দা নয়, বাস্তবেই আত্মসমর্পণ করলেন ‘লেডি পুষ্পা’ – এবেলা

সিনেমার পর্দা নয়, বাস্তবেই আত্মসমর্পণ করলেন ‘লেডি পুষ্পা’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন নজির তৈরি হলো। রাজ্য সরকারের পুনর্বাসনের আশ্বাসে আস্থা রেখে অবশেষে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এলেন কুখ্যাত প্রাক্তন মহিলা মাওবাদী নেতা পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। বুধবার কলকাতায় নগরপালের দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র সমর্পণ করেন তিনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাওবাদী দমনে এবং তাঁদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে সশস্ত্র আন্দোলন

২০০১ সালে মাওবাদী সংগঠনের একটি সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন শকুন্তলা। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকার মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা এই নারী ধীরে ধীরে সংগঠনের প্রথম সারির নেত্রী হয়ে ওঠেন। মূলত ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সীমান্ত এলাকায় তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তবে ঝাড়খণ্ডে মূল ঘাঁটি হলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও মাওবাদী কার্যকলাপের নেটওয়ার্ক বিস্তারে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে তিনি এই নাশকতামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পুনর্বাসনের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি শকুন্তলা মাওবাদী কার্যকলাপ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে বাসস্থান ও স্থায়ী জীবিকা নির্বাহের জন্য পুনর্বাসনের স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আত্মসমর্পণের ফলে জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় মাওবাদী নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল। একইসঙ্গে সরকারের এই নমনীয় ও পুনর্বাসনমুখী নীতি অন্যান্য সক্রিয় মাওবাদীদেরও অস্ত্র ছাড়তে উৎসাহিত করবে। আত্মসমর্পণ করার পর পুষ্পা নিজেও তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে হিংসার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মাওবাদী আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ জীবনই এখন একমাত্র বিকল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *