তৃণমূলে বড়সড় ভাঙনের আভাস, মমতাকে সম্মান জানিয়েও শুভেন্দুর উন্নয়ন মডেলে আস্থা রচনার – এবেলা

তৃণমূলে বড়সড় ভাঙনের আভাস, মমতাকে সম্মান জানিয়েও শুভেন্দুর উন্নয়ন মডেলে আস্থা রচনার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় রাজনৈতিক ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে লোকসভার সচিবালয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছেন। মঙ্গলবার লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও বৈঠক করেন এই তারকা সাংসদ। লোকসভা সচিবালয় থেকে বেরিয়ে তিনি সাফ জানান, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদদের পথ অনুসরণ করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উন্নয়নের স্বার্থে দলবদল ও নতুন সমীকরণ

নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থ এবং থমকে থাকা উন্নয়নকে গতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে আশানুরূপ কোনো উন্নয়ন হয়নি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিজের বক্তব্যে কেন্দ্রের সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী ক্ষেত্রে বড় কোনো কাজ করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য। গত রবিবারই তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। সেই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এই দলছুট গোষ্ঠীর সঙ্গেই আছেন, তা মঙ্গলবার দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করলেন।

মমতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং শুভেন্দুর প্রশংসা

রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থান নিলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত পুরনো এবং সেই সম্মান চিরকাল অটুট থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, গত এক-দুই মাসে রাজ্যে উন্নয়নের গতি ফিরে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে কাজ করছেন, তা রাজ্যবাসী গত কয়েক বছরে দেখেনি এবং তিনিই দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে প্রকৃত উন্নয়ন করতে হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

এই ঘটনার ফলে রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে এক বড় ধরনের ফাটল প্রকাশ্যে এল। ২০ জন সাংসদের একসঙ্গে দলত্যাগের এই সিদ্ধান্ত দিল্লির বুকে তৃণমূলের সংসদীয় শক্তিকে যেমন দুর্বল করবে, তেমনই রাজ্যের বর্তমান শাসক দল ও প্রশাসনের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এই দলবদলের ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অনুদান এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *